বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রয়োজন মেটাতে প্রায় ৩৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বিদেশি ঋণ নেওয়ার উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভাসমান সুদের হারে এ ধরনের ঋণ গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে সুদ ও কিস্তি পরিশোধের ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে দলটির আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ূম সোবহানী ও মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জ্বালানি আমদানির জন্য এত বিশাল অঙ্কের ঋণ নেওয়ার আগে দেশের প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা আয় এবং ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা খতিয়ে দেখা জরুরি ছিল। বর্তমানের সাময়িক চাহিদা মেটাতে গিয়ে এমন কোনো ঋণের বোঝা চাপানো ঠিক হবে না, যার মাশুল আগামী দিনে দেশের সাধারণ জনগণকে দিতে হবে।

নেজামে ইসলাম পার্টির নেতারা বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির জন্য নেওয়া স্বল্পমেয়াদি ঋণের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেন। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হার বৃদ্ধি পেলে এই ঋণের ব্যয়ও অনেক বেড়ে যাবে। এছাড়া মেয়াদ শেষে ঋণ পরিশোধ অথবা তা নবায়নের ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা তৈরি হলে, একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ডলারের জোগান দেওয়া দেশের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের সাধারণ মানুষ ও জাতীয় অর্থনীতির ওপর।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ যদি এভাবে ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তবে জাতীয় বাজেটের একটি বড় অংশ কেবল ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধেই শেষ হয়ে যাবে। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার চাপ তৈরি হবে। নেতারা মনে করেন, এ ধরনের অপরিকল্পিত ও ব্যয়বহুল ঋণ গ্রহণ কোনোভাবেই একটি দায়িত্বশীল অর্থনৈতিক নীতি হতে পারে না।

পরিশেষে, সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দলটির শীর্ষ নেতারা বলেন, প্রয়োজনের অজুহাতে কঠিন শর্তে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এর পরিবর্তে কম খরচে অর্থায়নের বিকল্প উৎসগুলো খুঁজে বের করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঋণের প্রতিটি শর্ত জনগণের সামনে পুরোপুরি স্পষ্ট করার দাবি জানান তারা। ঋণের অর্থ যাতে কোনো ধরনের অপচয়, দুর্নীতি বা অদক্ষ প্রকল্পে নষ্ট না হয়, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তারা। নেতাদের মতে, ঋণ নিয়ে সাময়িক সংকট কাটানো সহজ হলেও, সেই ঋণের বোঝা জনগণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।