কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় কুমারখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর রাতে এনসিপির কুষ্টিয়া শাখার আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদাউস টনি বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। মামলায় ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৪ অক্টোবর রাতে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী লালন শাহের মাজার পরিদর্শনে যান। মাজার পরিদর্শন শেষে রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে মূল ফটক দিয়ে বের হওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর দিকে ডিম নিক্ষেপ করে এবং লাঠি, বাঁশ, পাইপ, লোহার রড, পাথর ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে মারধর করে। এ সময় তার ব্যবহৃত গাড়িটিও ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ প্রহরায় তিনিসহ এনসিপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ মাজার প্রাঙ্গণ থেকে নিরাপদে বের হতে সক্ষম হন।
এজাহারে আরও জানানো হয়, ঘটনার রাতে কুমারখালী থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে অজ্ঞাতনামা হামলাকারীরা থানা ঘেরাও করে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে তারা থানা থেকে বের হয়ে আসতে বাধ্য হন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা অনুকূলে না থাকায় এজাহার দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়।
এনসিপির জেলা শাখার সদস্য সচিব সুলতান মারুফ তালহা শুক্রবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে জানান, হামলার পর তাদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার সময় কুমারখালী থানার ওসি জানিয়েছিলেন যে তার ওপর চাপ রয়েছে। আসামিদের নাম উল্লেখ করলে তিনি মামলা নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছিলেন, তাই বাধ্য হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা দিতে হয়েছে।
এদিকে, এই হামলার ঘটনায় কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মিরপুর উপজেলার আমলা সরকারি কলেজে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব খন্দকার তসলিম উদ্দিন নিশাত দাবি করেন, নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীকে তারই এক ছোট ভাই মারধর করেছেন। তিনি বলেন, 'নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী, আপনারা কিছুদিন আগে দেখেছেন, কুষ্টিয়ায় এসে উত্তম-মাধ্যম খেয়ে চলে গেছেন। উত্তম-মাধ্যম কে দিয়েছে, আমি জোর গলায় বলতে পারি—আমারই এক ছোট ভাই ছিল।'
সুলতান মারুফ তালহা বলেন, ছাত্রদল নেতার এই স্বীকারোক্তির পর তারা পুলিশের যথাযথ ও কার্যকর ভূমিকা দেখতে চান এবং আশা করেন যে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে, তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২: ১৯আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২: ২৮