প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৫ পিএম। সন্দেহের বশে কাউকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে ভারত থেকে বহিষ্কার করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মুর্শিদাবাদের এক ব্যক্তির আটকাদেশ ও তাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের প্রস্তাবকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি মামলার শুনানি চলাকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মামলার শুনানিতে ভুক্তভোগী ব্যক্তির আইনজীবী জানান, কয়েকজন প্রতিবেশীর বক্তব্যের ভিত্তিতে সৃষ্ট সন্দেহের জেরে গত ৮ আগস্ট থেকে ওই ব্যক্তিকে আটকে রাখা হয়েছে। তার স্ত্রী এই আটকাদেশ ও ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের জারি করা বহিষ্কারাদেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলাটি করেছিলেন।
শুনানি শেষে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য ওই ব্যক্তির বহিষ্কারাদেশ আপাতত ‘স্থগিত’ রাখার নির্দেশ দেন। নাগরিকত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি এবং আবেদনকারীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়নি বলে তিনি প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে তিনি জানতে চান, কেন ওই ব্যক্তিকে দুই মাস ধরে আটকে রাখা হয়েছে।
আইনজীবী রবিউল ইসলাম জানান, তার মক্কেল দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে শুধুমাত্র প্রতিবেশীদের সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে আটক রয়েছেন। বিচারপতি এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেবল কিছু মানুষের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো ব্যক্তিকে অনুপ্রবেশকারী সাব্যস্ত করা যায় না। তিনি আরও বলেন, সত্তরের দশক থেকে কত মানুষ সীমান্ত পার হয়ে এসেছে, তাদের সবাইকে কি ফেরত পাঠানো সম্ভব?
রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট-জেনারেল রাজদীপ মজুমদার দাবি করেন, আটক ব্যক্তি ভুয়া নথিপত্রের ভিত্তিতে ভোটার কার্ড, আধার ও প্যান কার্ড সংগ্রহ করে থাকতে পারেন। তবে আদালত মামলাটি প্রধান বিচারপতির কাছে ফেরত পাঠিয়েছেন যাতে এটি উপযুক্ত বেঞ্চে ন্যস্ত করা যায়।
উল্লেখ্য, গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে পশ্চিমবঙ্গসহ বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী মুসলিমদের অবৈধ বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে বহিষ্কারের অভিযোগ উঠেছে। রাজ্য সরকারের ‘আটক, নাম বাদ দেওয়া ও বহিষ্কার’ নীতির আওতায় সন্দেহভাজনদের আটকশিবিরে রাখার ঘটনাও ঘটছে। বিরোধী দল ও সুশীল সমাজের অভিযোগ, বিজেপিকে সুবিধা দিতে প্রকৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।