পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় এক ব্যবসায়ীকে কৌশলে ফাঁদে ফেলে মারধর, নগ্ন ভিডিও ধারণ এবং সেই ভিডিওর মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে ভাণ্ডারিয়া পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সজীব চাপরাশিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সজীবকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করেছে পিরোজপুর জেলা ছাত্রদল। আজ শুক্রবার সকালে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে ভাণ্ডারিয়া বাজারের রিজার্ভ পুকুরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া অন্য দুজন হলেন মোস্তাফিজুর রহমান রনি (৩৫) ও মারিয়া আক্তার (ছদ্মনাম)। গ্রেপ্তার সজীব চাপরাশি (২৫) উপজেলার উত্তর-পূর্ব ভাণ্ডারিয়া এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভাণ্ডারিয়া বাজারসংলগ্ন রিজার্ভ পুকুরপাড় এলাকায় ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী মানবেন্দ্র রায় মুন্নাকে (৩৪) কৌশলে ফাঁদে ফেলে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নগ্ন ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সজীব চাপরাশিকে বহিষ্কার করে পিরোজপুর জেলা ছাত্রদল। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীন এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক খালিদ হাসানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সজীবকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মী যেন তার সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখেন, সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার বলেন, স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সজীবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের ইতিমধ্যেই আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।