প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
ইরানের ওপর তিন দিনব্যাপী একটি তীব্র সামরিক হামলা চালানোর জন্য বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেবে না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশেই পেন্টাগন এই হামলার রূপরেখা তৈরি করেছে। সম্প্রতি ক্যাম্প ডেবিডে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এই পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এই সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভান্ডারকে, যা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর নতুন করে গড়ে তুলেছে। এছাড়া ইরানের সামরিক সদর দপ্তর, জ্বালানি কেন্দ্র এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকেও হামলার সম্ভাব্য তালিকায় রাখা হয়েছে।
এদিকে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, পেন্টাগন ইতিমধ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডকে (সেন্টকম) ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের লড়াইয়ের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখতে নির্দেশ দিয়েছে। তবে এই অভিযানের জন্য কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি এবং চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি।
এই ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতির মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে তাদের 'ফলপ্রসূ আলোচনা' চলছে এবং নির্বাচনের আগে কোনো আক্রমণ করা হবে না। তবে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।