শ্রেণিকক্ষে হিজাব নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা তাসনিম সিরাজ মাহবুবকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান। শনিবার বিকেলে ফেনী শহরের ঐতিহাসিক মিজান ময়দানে হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত ‘শানে রেসালত সম্মেলন’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
সম্মেলনে হেফাজত মহাসচিব বলেন, ওই শিক্ষিকাকে কেবল প্রশাসনিক বা একাডেমিক কাজ থেকে বিরত রাখলে চলবে না, তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে অন্য কোনো আদর্শে যা নেই, ইসলাম ধর্মে নারীকে সেই সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।
মহানবী (সা.)-এর মর্যাদা রক্ষা করাকে প্রতিটি মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব উল্লেখ করে মাওলানা সাজিদুর রহমান বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে নিয়ে যেকোনো ধরনের কটূক্তি বা অবমাননা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে তার সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় মুমিন মুসলমানরা নিজের রক্ত দিতেও প্রস্তুত রয়েছে।
সম্মেলন থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হেফাজত মহাসচিব দাবি জানান, মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তিকারীদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে দ্রুত আইন পাস করতে হবে। একই সঙ্গে কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম সংখ্যালঘু ঘোষণা এবং তাদের নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে সংসদে বিল আনার জোর দাবি তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ট্রান্সজেন্ডারবিষয়ক শিক্ষা কিংবা মতবাদ চালু করতে দেওয়া হবে না। ঈমান ও আকিদা রক্ষার তাগিদে 'হিজবুত তওহিদ' নামের সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি ৯২ শতাংশ মুসলিমের এই দেশে নারীদের আন্তর্জাতিক পরিসরে মার্জিত পোশাক পরিধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এছাড়া ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত যেকোনো আইন বা নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের পরামর্শ ও মতামত নেওয়ার আহ্বান জানান।
হেফজাতে ইসলামের ফেনী জেলা সভাপতি মাওলানা আফজালুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা ওমর ফারুকের পরিচালনায় উক্ত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওলামা বাজার মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা নুরুল ইসলাম আদিব, হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক খলিল আহমদ কোরাইশী এবং কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক।
সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মধুপুরের পীর মাওলানা আব্দুল হামিদ, মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাদী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা আহমদ আল কাসেমী, মুফতি হারুন ইজহার চৌধুরী, মুফতি হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী ও মুফতি কেফায়েত উল্লাহ আজহারীসহ আরও অনেকে।