ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের দ্রুত ক্ষমতাচ্যুতির মধ্য দিয়েই দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ সুগম হবে বলে মন্তব্য করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম-এ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি সংসদের সংবিধান সদনের সেন্ট্রাল হলে 'ইন্ডি' (INDIA) জোটের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
রাহুল গান্ধী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশে বর্তমানে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা কেবল একজন নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবির চেয়ে অনেক বেশি গভীর ও বড় সংকটকে নির্দেশ করে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে নরেন্দ্র মোদি সরকারের পতন ঘটানো অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত কিছুদিন ধরে বিরোধী দলগুলো যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে, তাতে সরকারের ভিত্তি কেঁপে উঠেছে এবং তারা চরম আতঙ্কে ভুগছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ দেওয়া এক বার্তায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী স্পষ্টভাবে জানান, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করবেন এবং একইসঙ্গে বর্তমান সরকারেরও পতন ঘটবে। এরপরই দেশে গণতন্ত্র মেরামতের প্রকৃত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার এই সংগ্রামকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিরোধীরা যদি আন্দোলনের এই ধারাবাহিকতা ও চাপ অব্যাহত রাখতে পারে, তবে মোদি সরকারের পতন ঠেকানো সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক এই উত্তাপের নেপথ্যে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের একটি খবর প্রকাশ। সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ মাসে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুজন কমিশনার অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে এবং বিরোধীরা বিক্ষোভ শুরু করে।
যদিও এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সাফাই গেয়ে বলা হয়েছে যে, যেকোনো প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানে মতপার্থক্য থাকা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং কমিশনের নির্দেশিকাগুলো সম্পূর্ণ আইনসম্মতভাবে জারি করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের এই ব্যাখ্যার পরও বিরোধী দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে রাহুল গান্ধী মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ অব্যাহত রেখেছেন।