সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০৯ জন। আহতদের অ্যাম্বুলেন্স ও হেলিকপ্টারে করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। হামলার পর স্বাস্থ্য বিভাগ জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকদের তলব করেছে।
হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি এই হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সৌদি হামলায় বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। এদিকে, এই হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন ১৫৫টি আগমনী ও ১৬১টি বহির্গামী ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং রিয়াদগামী সব ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপর বের হওয়ার ফটকের কাছে ছাদের একটি অংশ ধসে পড়েছে। বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে হামলার ঘটনা প্রত্যক্ষ করা একজন যাত্রী বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমি ৪০৩ নম্বর গেটে ছিলাম।’
নিহত ১২ জনের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন, বাংলাদেশের দুজন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার আগে কোনো সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি এবং সৌদি আরবের হুমকি শনাক্তকরণ ব্যবস্থাও কোনো সংকেত দেয়নি। বিমানবন্দরে থাকা যাত্রীরা বিস্ফোরণ ও ছাদ ধসে পড়ার মতো ভয়াবহ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন।
চলতি সপ্তাহে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এটি তৃতীয় হামলার ঘটনা। এ ছাড়া মোট ২২২টি ফ্লাইটের উড্ডয়ন ও অবতরণে দেরি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ও এর আগে চলতি সপ্তাহে হুতিদের হামলার কারণে বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ সংস্থা সৌদি আরবের রাজধানীতে তাদের ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল করেছে। হামলার পরপরই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা রাজধানীর দক্ষিণ-পূর্বে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে এবং দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে। বর্তমানে কিং খালেদ বিমানবন্দরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।