গত ১০ অক্টোবর শনিবার কক্সবাজার থেকে ৭৫ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল বাংলাদেশ বিমানের বিজি ৪৩৬ ফ্লাইটটি। বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে উড্ডয়নের প্রায় আধঘণ্টা পর আকাশপথে থাকা অবস্থায় উড়োজাহাজটির পেছনের একটি চাকায় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে পাইলট দ্রুত ঢাকার কন্ট্রোল টাওয়ারে জরুরি বার্তা পাঠান।

উড়োজাহাজটির নিরাপদ অবতরণ নিশ্চিত করতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। বেলা ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত রানওয়েতে উড়োজাহাজ ওঠানামা বন্ধ ছিল। এর মধ্যে বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে পাইলট দক্ষতার সঙ্গে বিমানটিকে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করাতে সক্ষম হন। ফ্লাইটের সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে বিমান থেকে নিচে নেমে আসেন।

সেই ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইসমত আরা প্রিয়া। তিনি তাঁর স্বামী ও ১৯ মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে কক্সবাজার থেকে ফিরছিলেন। যাত্রীদের জানানো হয়েছিল যেন তারা জরুরি বহির্গমন পথ দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে আসার জন্য প্রস্তুত থাকেন। সেই দুই ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, প্রতিটি মুহূর্ত ছিল উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তায় ভরা। বিমানটি ল্যান্ডিং গিয়ারের সমস্যার কারণে নিচে নামা এবং আবার উপরে ওঠার সময় যাত্রীরা চরম আতঙ্কে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করলে যাত্রীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক গোলাম মোর্তজা হোসেন জানিয়েছেন, উড্ডয়নের সময় উড়োজাহাজটির কোনো সমস্যা ছিল না, ত্রুটিটি ঢাকার আকাশে থাকা অবস্থায় দেখা দিয়েছিল। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অনিবার্য পরিচালনগত ও কারিগরি কারণে ফ্লাইটটির সময়সূচিতে বিলম্ব হয়েছিল এবং সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে পৌঁছেছেন। সংস্থাটি এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্বের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।