পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পিটিআইয়ের লংমার্চের জেরে প্রদেশটিকে কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে আনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে ক্ষমতাসীন জোট। পিএমএল-এন এবং পিপিপির শীর্ষ নেতারা শনিবার এই সিদ্ধান্ত নেন। সংবিধানের জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির বিধানকে কাজে লাগিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আজ রোববার এ বিষয়ে আলোচনার জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। একই সঙ্গে আগামী মঙ্গলবার জাতীয় পরিষদ ও সিনেটের পৃথক অধিবেশন আহ্বানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন জোট। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, সংবিধানের ২৩২, ২৩৩ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের বিভিন্ন বিধান প্রয়োগের মাধ্যমে এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করা হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিকে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি জানিয়েছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি এড়ানোর সুযোগ আর নেই। তিনি বলেন, সরকার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আলোচনার চেষ্টা করেছে, কিন্তু এখন আর তাদের হাতে কিছুই নেই। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারও মন্ত্রিসভার বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, জরুরি অবস্থা বা গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। ইতিমধ্যে প্রাদেশিক সরকারের সব জেলার ডেপুটি কমিশনার ও পুলিশ কর্মকর্তাদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

এদিকে, কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তি এবং অন্যান্য দাবিতে পিটিআই গত ৪ অক্টোবর থেকে লংমার্চ শুরু করেছে। মাওলানা ফজলুর রহমান সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন এবং তিনি ব্যারিস্টার গওহর আলী খান ও আসাদ কায়সারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। জেইউআই-এফের এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, তারা কেবল আলোচনার পথ প্রশস্ত করার চেষ্টা করছেন, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকার ও পিটিআইকেই নিতে হবে।