শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জের মৃৎশিল্পীদের কর্মব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। পূজামণ্ডপগুলোতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা পৌঁছে দিতে কারিগরেরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিটি প্রতিমা তৈরির প্রতিটি ধাপে ফুটে উঠছে তাদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও কঠোর শ্রম। বাঁশ ও খড় দিয়ে কাঠামো তৈরির পর ধাপে ধাপে মাটি দিয়ে দেবী দুর্গা ও অন্যান্য দেবদেবীর অবয়ব গড়ে তোলা হচ্ছে। এরপর মাটি শুকিয়ে সূক্ষ্ম কারুকাজ ও রং করার কাজ শেষে শাড়ি, অলংকার ও চুলের মতো সাজসজ্জায় প্রতিমা পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে।

সিরাজগঞ্জের ভদ্রঘাটের পালপাড়ার কারিগর দুলাল পাল জানান, গত দুই বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিমা তৈরির চাপ বেশি। পূজার সময় যত এগিয়ে আসছে, কাজের চাপ ততই বাড়ছে। সময়মতো মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা সরবরাহ নিশ্চিত করতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পরিবারের নারী সদস্যদের সহযোগিতায় তারা কাজ করছেন। কারিগরদের কাছে প্রতিমা তৈরির এই কাজ শুধুমাত্র জীবিকা নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাদের ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাদের নিপুণ হাতে তৈরি প্রতিমা যখন পূজামণ্ডপে শোভা পায়, তখনই তাদের দীর্ঘদিনের শ্রম সার্থক হয়।

চলতি বছর সিরাজগঞ্জ জেলায় মোট ৫৫৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। কারিগরদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি প্রতিমা ১৫ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ ছাড়াও পাবনা, বগুড়া, নাটোর ও টাঙ্গাইলসহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতারা প্রতিমা কিনতে এখানে ভিড় করছেন।