৪১ বছর বয়সেও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়ে চলেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সিএনএন পর্তুগালকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে পর্তুগিজ এই মহাতারকা নিজেকেই ইতিহাসের সেরা ফুটবলার হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন, তার নামের পাশে থাকা গোলসংখ্যাই তার শ্রেষ্ঠত্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণ। রোনালদো মনে করেন, তার পারফরম্যান্স এবং গোল করার ধারাবাহিকতার যে মান, তা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।

পেশাদার ক্যারিয়ারে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে মোট ১৩৩৭ ম্যাচে ৯৮০ গোল করেছেন রোনালদো। ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ১০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে তার প্রয়োজন আর মাত্র ২০ গোল। তবে এই সংখ্যাটিকে নিজের ওপর বাড়তি চাপ হিসেবে নিতে চান না আল নাসরের এই ফরোয়ার্ড। তিনি জানিয়েছেন, ১০০০ গোল করা একটি লক্ষ্য হলেও তিনি দীর্ঘমেয়াদে চিন্তা না করে স্বাভাবিকভাবে সবকিছু ঘটতে দিতে চান। রোনালদোর ভাষ্যমতে, ৯২০, ৯৩০ কিংবা ১০০০ গোল—যাই হোক না কেন, পরিসংখ্যানের বিচারে তিনি নিজেই সর্বকালের সেরা।

রোনালদোর এই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারটি প্রকাশের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই সিএনএন পর্তুগাল তাদের ওয়েবসাইট থেকে ভিডিও ও লিখিত সংস্করণটি সরিয়ে নিয়েছে। চ্যানেলটি কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার কোনো ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।

এদিকে রোনালদো বর্তমানে বেশ কিছু বিতর্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক বিরতির সময় জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে আকস্মিক বিদায় এবং পরবর্তীতে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) শৃঙ্খলা ভঙ্গের তদন্তের মুখে পড়েছেন তিনি। কোচ জর্জ জেসুসের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন রোনালদো। তার দাবি, জেসুস তাকে নেশনস লিগে খেলানোর বিষয়ে কথা রাখেনি এবং পেলে বা ম্যারাডোনার সাথে তুলনা করার যে প্রতিশ্রুতি ছিল তাও রক্ষা করেননি। তবে ১৭৪০ শব্দের এক বিবৃতিতে রোনালদো জানিয়েছেন, এখনই অবসরের পরিকল্পনা নেই এবং পর্তুগালের জার্সিতে বিদায়ী ম্যাচ খেলার আশা রাখেন তিনি। ২০০৩ সাল থেকে পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন রোনালদো। আন্তর্জাতিক ফুটবলে পুরুষদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪৬ গোলের রেকর্ডও তাঁর। অবসরের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি অনিশ্চয়তার সুরে বলেন, ভবিষ্যতে খেলার প্রেরণাই হয়তো তাকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে।