রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য স্থাপত্য অধিদপ্তর জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলীকে অনুসরণ করে তিনটি ভিন্ন নকশা চূড়ান্ত করেছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি সভায় এই বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং নকশাগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।

স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরুর আগে ওই এলাকার সড়কের প্রশস্ততা এবং যানবাহন চলাচলের সক্ষমতা যাচাইসহ বিভিন্ন বিষয়ে একটি বিশদ জরিপ পরিচালনা করা প্রয়োজন।

নতুন সচিবালয়ের নকশা প্রসঙ্গে স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, বিখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের করা জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলীকে অনুসরণ করা হলেও সংসদ ভবনের মতো কোনো ফটক রাখা হবে না। এর আগেও ২০১৫ সালে শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যেখানে বাণিজ্যমেলার মাঠকে স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকার সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে।

বিগত সরকার বিদ্যমান সচিবালয় এলাকায় বেশ কিছু নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ করেছিল। এছাড়া সচিবালয়ের পশ্চিম পাশে পরিবহন পুল ও জিপিও এলাকায় নতুন সচিবালয় তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পুনরায় শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই সচিবালয়ের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে গুলিস্তান ও এর আশপাশের এলাকায় থাকা সরকারি দপ্তরগুলো সেখানে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।