চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে ২১ ফুটের পথ ৩৪ ফুটে উন্নীত করার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। দক্ষিণ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের চার থেকে ছয় লেনের জোর দাবির মুখে পর্যটক ও যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার এই প্রশস্তকরণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বর্তমানে এই মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের সার্বিক কাজের ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
মহাসড়কটির কর্ণফুলী উপজেলা থেকে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া অংশটি অতিরিক্ত গাড়ি চলাচল, সরু রাস্তা ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকের কারণে দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। ছোট-বড় বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটায় স্থানীয় অধিবাসীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। সরকারের প্রশস্তকরণ উদ্যোগে বর্তমানে যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মোট তিনটি পৃথক প্যাকেজে বিভক্ত করে প্রশস্তকরণ কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম প্যাকেজের আওতায় সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে লোহাগাড়ার রাজঘাটা ব্রিজ পর্যন্ত ৮.২ কিলোমিটার অংশ প্রশস্ত করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএএইচ কনস্ট্রাকশন, যার ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে প্রায় ৩৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। দ্বিতীয় প্যাকেজে রাজঘাটা ব্রিজ থেকে চুনতি গ্রিন ভিউ নার্সারি পর্যন্ত ৭.২ কিলোমিটার অংশের কাজ প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পাদন করছে এমএ ইঞ্জিনিয়ারিং। অন্যদিকে তৃতীয় প্যাকেজে গ্রিন ভিউ নার্সারি থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত ৬.৪ কিলোমিটার অংশের কাজ ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করছে এমএএইচ কনস্ট্রাকশন।
এছাড়া মহাসড়কের সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনাপ্রবণ ও 'মৃত্যুপুরী' হিসেবে পরিচিত জাঙ্গালিয়া এলাকায় প্রায় ৯০০ মিটার দীর্ঘ অংশকে সরাসরি চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে।
কাজের গুণগত মান ও অগ্রগতি প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান, মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজের অর্ধেক ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সড়কের নির্মাণশৈলী ও মান বজায় রাখতে প্রতিনিয়ত ল্যাব টেস্ট পরিচালনা করা হচ্ছে এবং পরীক্ষায় গুণগত মান সঠিক পেলেই কেবল ঠিকাদারি বিল অনুমোদন করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা সত্ত্বেও নানা ত্রুটি হতে পারে, কারণ মহাসড়কের কাজে নিয়োজিত কর্মীরাও মানুষ।
এ অঞ্চলের সচেতন মহল মনে করছেন, সড়কটির এই উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে দূরপাল্লার বাসসহ সার্বিক যানবাহনের দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। পরবর্তীতে পুরো মহাসড়কটি চার বা ছয় লেনে উন্নীত করা সম্ভব হলে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পর্যটকদের চলাচল বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন নতুন শিল্পকারখানা ও কর্মসংস্থান গড়ে উঠবে।