প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম। তেলের দাম হ্রাস এবং মার্কিন ডলারের মান কমে যাওয়ার প্রভাবে মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৮৬ দশমিক ৯১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার দর ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২১১ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছেছে।

স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্যবাজার কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে বুধবার সেপ্টেম্বরের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই), এবং বৃহস্পতিবার উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) ও খুচরা বিক্রির তথ্য প্রকাশ করা হবে। এছাড়া শুক্রবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ বক্তব্য দেবেন। হ্যানসেনের মতে, এসব তথ্য ও বক্তব্য স্বর্ণের বাজারের পাশাপাশি বন্ডের মুনাফার হার ও ডলারের মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ক্রয়-আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বাজারের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর তেলের দামের পতন এবং মার্কিন ডলারের অবস্থানের পরিবর্তন প্রভাব ফেলেছে। ডলার তার ১৮ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা নিচে নেমে এসেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের মুনাফার হার গত ২ অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের (সিএমই) ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা মাত্র ১৭ শতাংশ, তবে ডিসেম্বরে তা ৮৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন।

ক্লিভল্যান্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাক মন্তব্য করেছেন যে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফেডারেল রিজার্ভের আরও দ্রুত ও কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো মনে করেন, সরকারি ঋণের বোঝা, সুদ পরিশোধের ব্যয় বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনার প্রবণতা স্বর্ণের বাজারকে দীর্ঘমেয়াদে সহায়তা করতে পারে। তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছরের শেষ দিকে এবং ২০২৭ সালে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল হয়ে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে ৬০ দশমিক ৪৪৮১ ডলারে, প্লাটিনামের দাম ০.৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭০১ দশমিক ১০ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৪৯ দশমিক ৫২ ডলারে পৌঁছেছে।