আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ৩৫ বছর বয়সের পর আর কারো আইনজীবী হওয়ার সুযোগ থাকবে না। এই উদ্যোগের বিষয়ে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট অডিটরিয়ামে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও ইউএনডিপি আয়োজিত আইন শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণের বিষয়টি মূলত বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির সুপারিশ থেকে এসেছে। গত ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একটি সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিলের প্রেক্ষাপটে কমিটি এই বয়সসীমা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। কমিটির মতে, আইন পেশার মর্যাদা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পেশাগত সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া সমীচীন।

গত ১৯ আগস্ট বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার রুখুল কুদ্দুস কাজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যরা আইনজীবী তালিকাভুক্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণে ঐকমত্য পোষণ করেন। এই সিদ্ধান্তটি ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আইনজীবীদের পেশাগত উৎকর্ষের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইনজীবীদের কর্মজীবনের তুলনা করে বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কর্মজীবন শুরুর দিকে উজ্জ্বল হলেও আইনজীবীদের নানা প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে হয়। তিনি আইনজীবীদের বিয়ের ক্ষেত্রে সামাজিক চাহিদা কম হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে পেশার মর্যাদা বাড়াতে নিজেদের ভূমিকার ওপর জোর দেন।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, একজন আইনজীবীর জ্ঞান কেবল আইনশাস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, নৃবিজ্ঞান, রসায়ন, শারীরস্থান ও সামাজিক চুক্তিতত্ত্বের মতো বিষয়েও জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। আইনজীবীদের ‘সামাজিক প্রকৌশলী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে তাদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়াও জরুরি।

বিচারকদের মতো আইনজীবীদেরও জবাবদিহির আওতায় থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে আইন পেশার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস, ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী, স্টিফেন রড্রিক্স এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস উপস্থিত ছিলেন।