দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এই নীতিমালাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়, যাতে স্বাক্ষর করেছেন সরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার উপসচিব তানিয়া ফেরদৌস।
নতুন এই নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের ভর্তি নেওয়া হবে ডিজিটাল লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে। এক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী আবেদনের সময় সর্বোচ্চ পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রম হিসেবে দিতে পারবে। তবে ডাবল শিফটযুক্ত কোনো স্কুলে উভয় শিফট পছন্দ করলে তা দুটি বিদ্যালয় হিসেবে গণ্য হবে। একই প্রতিষ্ঠানে একাধিক আবেদন করা হলে শিক্ষার্থীর সকল আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।
প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়াটি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কেন্দ্রীয়ভাবে সম্পন্ন করবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে লটারি কার্যক্রমটি ভর্তি কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে পরিচালনা করতে হবে। লটারিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকার পাশাপাশি শূন্য আসনের সমপরিমাণ অপেক্ষমাণ তালিকাও তৈরি রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে। এই ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বাছাই করা হবে এবং প্রথম শ্রেণির মতো এখানেও শূন্য আসনের সমান সংখ্যক অপেক্ষমাণ তালিকা প্রস্তুত রাখতে হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা হবে ৫০ নম্বরের, যার সময়সীমা ১ ঘণ্টা। এতে বাংলায় ১৫, ইংরেজিতে ১৫ ও গণিতে ২০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। এছাড়া ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরের, যার সময়সীমা ২ ঘণ্টা। এই পরীক্ষায় বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ ও গণিতে ৪০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে।