বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এবং রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, দেশ আমাদের সবার এবং এখানে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু শব্দ শোনার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের সমান অধিকার রয়েছে। নাগরিক পরিচয়ে এখানে কোনো ভেদাভেদের সুযোগ নেই।
বুধবার দুপুরে বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ধর্ম সম্পূর্ণ মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়। মুসলমানরা তাদের ধর্ম পালন করবেন এবং হিন্দুরা তাদের নিজ ধর্ম পালন করবেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে প্রধান চারটি ধর্মের পাশাপাশি ৫০-৬০টি ছোট ছোট ধর্মীয় সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অতীতে সবাই মিলে শান্তিতে বসবাস করলেও আজ কেন পূজামণ্ডপ পাহারা দিতে হয় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কেন এত কষ্ট করতে হয়? তিনি মনে করেন, এই মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন যাতে সবাই নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারে।
ইসলামের মূল শিক্ষা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইসলাম ধর্ম অন্য ধর্মের ওপর আঘাত করতে শেখায় না। যারা ইসলামকে পছন্দ করে না, তারাই ইসলামের নাম ব্যবহার করে সংঘাত সৃষ্টি করে দোষ ইসলামের ওপর চাপায়। অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ধর্ম পালন করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ফেসবুকের সব খবর বিশ্বাস করা যাবে না। কোনো বিষয়ে সন্দেহ থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বা উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা বসে নেই এবং ফ্যাসিস্ট শক্তি পুনরায় গোলযোগ পাকানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই ষড়যন্ত্রকারীদের ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতির মাঠে লড়াই বা নির্বাচনের মাঠে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, তবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বদরগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মো. মোনাব্বর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজিজুল হক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সামিউল ইসলাম, বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান জাহিদ সরকার, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর শাহ মুহাম্মাদ রোস্তম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা।