‎পঞ্চগড়ে দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, ৩০১ মণ্ডপে দুর্গোৎসব
‎
‎পঞ্চগড় প্রতিনিধি: মোঃ শোহানুর রহমান শাহিন
‎
‎শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে। দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিতে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমায় রং-তুলির শেষ আঁচড় দিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পীরা। পাশাপাশি মণ্ডপ সাজানো, প্যান্ডেল নির্মাণ, তোরণ তৈরি ও আলোকসজ্জার কাজও চলছে দ্রুতগতিতে। অন্যদিকে, উৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে উদ্‌যাপনে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা।
‎জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবার পঞ্চগড়ের পাঁচ উপজেলায় মোট ৩০১টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে তিনটি।
‎সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, কোথাও প্রতিমার মাটির কাজ শেষ করে চলছে রং করার প্রস্তুতি, আবার কোথাও দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমার সাজসজ্জার কাজ চলছে। রং-তুলির নিপুণ আঁচড়ে দেবী দুর্গা, গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর প্রতিমায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে নান্দনিক রূপ। সময় ঘনিয়ে আসায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যস্থ প্রতিমাশিল্পীরা। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপের প্যান্ডেল, প্রবেশদ্বার, তোরণ ও আলোকসজ্জার কাজেও দেখা যাচ্ছে কর্মচাঞ্চল্য।
‎প্রতিমাশিল্পীরা জানান, প্রতিমা তৈরির মাটি, রং ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের উৎপাদন ব্যয় আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সেই অনুপাতে পারিশ্রমিক না বাড়ায় অনেক সময় খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ পেশার সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারি ভাতা চালুর দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। এদিকে, পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবের সার্বিক পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে প্রশাসন।
‎পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, সবার সহযোগিতায় জেলায় সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।”
‎সব মিলিয়ে, প্রতিমার শেষ সাজসজ্জা থেকে শুরু করে মণ্ডপের আলোকসজ্জা—সব প্রস্তুতি ঘিরে এখন ব্যস্ত পঞ্চগড়ের পূজামণ্ডপগুলো। প্রতীক্ষা এখন দেবী দুর্গার আগমনের। নিরাপত্তা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে আনন্দমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব উদ্‌যাপনের প্রত্যাশা জেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের।