দেশব্যাপী সবুজায়নের লক্ষ্য নিয়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা চারাগাছগুলো বাঁচিয়ে রাখার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই সভায় পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা খানম উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরে জানানো হয় যে, গত ১৩ জুন কর্মসূচি উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে ৩ কোটি ৫৭ লাখ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। তবে সুন্দরবনের ৩৯ শতাংশ সুন্দরী গাছ বর্তমানে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত, যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান। তিনি রোপিত চারাগাছগুলোর সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রতি তিন মাস পর পর এগুলোর হালনাগাদ তথ্য মন্ত্রণালয়কে সরবরাহের নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচিকে নিজের একটি ‘সিগনেচার প্রজেক্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর উপকারিতা দেশের সকল মানুষ ভোগ করবে। তাই পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে শিশু-কিশোরদের সম্পৃক্ত করার উপায় খুঁজে বের করতে মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলসহ যেসব বনভূমি উজাড় হয়ে গেছে, সেগুলোকে বৃক্ষরোপণের আওতায় আনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সভায় জানান, আগামী বছর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে চারার সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সারা দেশে ৫০৩টি নার্সারি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি নির্বাচনী ইশতেহারের সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, শুধু সরকার নয়, সাধারণ মানুষকেও ময়লা কম করার মাধ্যমে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে ভূমিকা রাখতে হবে।
শিশুদের বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে শিশুদের জন্মদিনে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এ ধরনের ছোট ছোট উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সভায় মা গাছ সংরক্ষণ, সুন্দরবনের সুরক্ষা ও আওতা বাড়ানো এবং প্রণোদনামূলক ছাদবাগান সম্প্রসারণের বিষয়েও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বর্তমানে দেশে ১৭ প্রজাতির মা গাছ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে অনেক প্রজাতির মাত্র একটি করে গাছ টিকে আছে বলেও সভায় আলোচনা হয়।
আপনি ১০০ জনকে করবেন, হয়তো ১০০ জন করবে না।
৫০ জন যদি করে, ২৫ জন যদি করে, সেটাও কিন্তু অনেক।’প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকের নিজেদের দায়িত্বের বাইরে গিয়েও দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দেশটা আমাদের সবার।’ সে জন্য শুধু ৯টা-৫টা নয়, তার বাইরেও কিছু করার চেষ্টা করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।