ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার পূজামণ্ডপগুলো। প্রতিমার বর্ণিল সাজ, আলোকসজ্জা আর ভক্তদের পদচারণায় চারপাশ এখন উৎসবমুখর। মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর তজুমদ্দিনে ১২টি স্থায়ী ও ৩টি অস্থায়ী মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল থেকেই প্রতিটি মণ্ডপে ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও দেবীর বোধনের আনুষ্ঠানিকতা চলে। পুরোহিতের মন্ত্রপাঠে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আমন্ত্রণ জানান ভক্তরা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন পোশাকে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী ভক্ত ও দর্শনার্থীরা মণ্ডপগুলোতে ভিড় করছেন। উপজেলা কেন্দ্রীয় কালীমন্দির, শশীগঞ্জ বাজার সার্বজনীন কালীমন্দির, উপজেলা সদর দুর্গামন্দির ও গৌড় গোবিন্দ মহাপ্রভুর আশ্রমসহ বিভিন্ন মণ্ডপে দর্শনার্থীদের আনাগোনা বেড়েছে।
উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্ট ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি অরবিন্দু দে টিটু জানান, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে এবং সবার প্রচেষ্টায় গত বছরের তুলনায় এবারও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব শেষ হবে বলে আশা করছেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে।
উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্ট ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক স্বপন চন্দ্র দাস বলেন, হিন্দু-মুসলিমসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে এ উৎসব সম্প্রীতির বন্ধনে পরিণত হয়েছে। বিজয়া দশমী পর্যন্ত উৎসবের এই আমেজ বজায় থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। উপজেলা সদর দুর্গামন্দিরের পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সহদেব দাস শুভ জানান, সব প্রস্তুতি শেষে মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে পূজা শুরু হয়েছে এবং তারা শান্তিপূর্ণ উদযাপনের প্রত্যাশা করছেন।