সরকারি বরাদ্দ জনগণের কষ্টার্জিত করের অর্থ, তাই উন্নয়নমূলক কাজে এর শতভাগ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য কড়া বার্তা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারি প্রকল্প বা যেকোনো উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের কমিশন বাণিজ্যের সুযোগ দেওয়া হবে না। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ‘ঢাকাস্থ শৈলকূপা উপজেলার ৩নং দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থা’র বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনয়ন এবং অনিয়মের সুযোগ বন্ধ করতে নানামুখী আধুনিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, এরই অংশ হিসেবে ঢাকা শহরে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত প্রথা ভেঙে সম্পূর্ণ লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। বদলি প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসন সম্পর্কে জনগণের নেতিবাচক ধারণা দূর করাই এ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি রাস্তাঘাট ও উন্নয়নকাজ সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা তদারকি করার দায়িত্ব স্থানীয় জনগণেরও রয়েছে। কোথাও নিম্নমানের কাজ করা হলে বা অনিয়ম চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক লিখিত অভিযোগ করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সুসংহত করার লক্ষ্যে শৈলকূপার ৩৯৫টি সড়ককে এলজিইডির তালিকাভুক্তির আওতায় আনার আশ্বাস দেন তিনি।
বক্তব্যে ঝিনাইদহের শৈলকূপায় মাদকের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কোনো অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে বলা হয়েছে। মাদক বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের রক্ষায় রাজনৈতিক তদবির গ্রহণযোগ্য হবে না। এছাড়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ঘরবাড়িতে হামলা, লুটপাট ও হেনস্তা বন্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বীর মুক্তিযোদ্ধা জেড এ ওয়াহেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় সাবেক সচিব খন্দকার শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।