সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন সহজতর করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (১৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৫তম বৈঠকে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে অধ্যাদেশটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

আগামী গ্রীষ্মকালের আগেই দেশে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি কোম্পানির ভবনের ছাদে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে অপারেশনাল এক্সপেনডিচার (ওপেক্স) মডেলে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় রয়েছে, তাদের ভবিষ্যৎ আয় বিবেচনায় ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার (ক্যাপেক্স) মডেলেও সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিদ্যুৎ খাতে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, ভর্তুকির চাপ হ্রাস, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ প্রণয়ন করেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওপেক্স মডেলে সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে ১৫ বছর পর্যন্ত বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ, ছাদের ভাড়া হিসেবে বিদ্যুতের অংশ দেওয়া এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান ছিল না। অন্যদিকে, ক্যাপেক্স মডেলে সার্ভিস প্রোভাইডারের সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান আইনে স্পষ্ট বিধির ঘাটতি ছিল। সার্বিকভাবে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬, ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন ২০২৬ এবং বিদ্যুৎ আইন ২০১৮-তে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর অনুপস্থিতি দূর করে চুক্তি, বিনিয়োগ ও মূল্য নির্ধারণ সহজ করতে এই অধ্যাদেশের খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়।