চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনস্থ সকল নির্বাচন আয়োজন করা বেশ কঠিন হতে পারে বলে জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ব্যস্ত সময় পার করছে। এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি অর্জনের পরই স্থানীয় সরকারের অন্যান্য স্তরের ভোট আয়োজনের বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। নির্দিষ্ট সময়ে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন সম্পন্ন করা যাবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নিজের ব্যক্তিগত অভিমত তুলে ধরে বলেন, চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন করা সম্ভব হবে বলে তাঁর মনে হয় না। আপাতত ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করার ওপরই প্রধান নজর দেওয়া হচ্ছে এবং সেটির পরেই অন্যান্য নির্বাচন নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হবে।

ইউপি নির্বাচনের তফসিল সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি জানান, তফশিল ঘোষণার আগে কমিশন প্রয়োজনীয় কাজ পরিচালনা করবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের বিষয় নিয়েও চিন্তাভাবনা করা হতে পারে। তবে এ মুহূর্তে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ হবে কিনা কিংবা নির্বাচনের বিস্তারিত তফসিল কবে নাগাদ ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানোর সুযোগ নেই। কমিশন তফসিল ঘোষণার আগে সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে।

নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের এখতিয়ার নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসি মাছউদ স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচনি আইন পরিবর্তন না করলেও সেনাবাহিনী মোতায়েন করার সুযোগ নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, প্রথম ধাপের আইনশৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি আগে পর্যালোচনা করা হবে, এরপরই পরবর্তী ধাপগুলোতে সেনা মোতায়েনের বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে ইউপিসহ অন্যান্য সব নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের তাগিদ দেওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার জানান, বর্তমানে কমিশন ইউপি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত রয়েছে। এই ব্যস্ততার কারণেই অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা এই মুহূর্তে প্রস্তুত করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ও সূচি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতার প্রয়োজন হবে। কমিশন সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।