ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একটি সামরিক শিবিরে ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঘটা এই হামলায় অন্তত ৫৩ জন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইয়েমেনের সামরিক কর্মকর্তারা। এছাড়া এই ঘটনায় ২০০ জনেরও বেশি নিয়োগপ্রত্যাশী আহত হয়েছেন।

শাবওয়া প্রাদেশিক সরকারের তথ্যমতে, নিহতদের এই সংখ্যা প্রাথমিক হিসাব মাত্র এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। হামলার শিকার ব্যক্তিরা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য ওই সামরিক শিবিরে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। প্রাদেশিক সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির পর্যায়ে থাকা অবস্থায় নতুন নিয়োগপ্রত্যাশীদের লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়। এটিকে শাবওয়া প্রদেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর একটি প্রকাশ্য আগ্রাসন এবং গুরুতর সামরিক উত্তেজনা হিসেবে বর্ণনা করেছে কর্তৃপক্ষ।

একজন ইয়েমেনি সামরিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণরত নিয়োগপ্রত্যাশীরা যখন সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন, ঠিক তখনই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শিবিরে আঘাত হানে। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি এই হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান-সমর্থিত হুতিরা চাপের মুখে পড়লে বা তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে এ ধরনের হামলার আশ্রয় নেয়।

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের তথ্য অনুযায়ী, হুতিদের সামরিক প্রশিক্ষণ, কারিগরি দক্ষতা এবং উন্নত অস্ত্র সরবরাহে ইরান ও তাদের মিত্ররা সহায়তা করে আসছে, যদিও ইরান বরাবরই অস্ত্র দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র পাল্টা দাবি করেছেন যে, সৌদি কর্মকর্তারা পরিচালনা করেন এমন একটি শিবিরকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে কয়েকজন সৌদি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তবে এই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি হুতিরা এবং সৌদি সরকার তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

গত গ্রীষ্মে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠে। এই হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের প্রভাব ইয়েমেনের সংঘাতকেও নতুন মাত্রা দিয়েছে, যা ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কার্যত ভেঙে দিয়েছে।