আগামী মাসে চীনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এই শীর্ষ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ হলেও এতে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এই আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে।

একই সাথে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির তীব্র সমালোচনা করেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। পুতিন ও শির সঙ্গে ইউক্রেন ইস্যুতে আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইউক্রেনকে নিয়ে তিনি বিশেষ আগ্রহী নন; কারণ তার দৃষ্টিতে রাশিয়া এ বিষয়ে ঠিকভাবেই এগোচ্ছে। এছাড়া পুতিনের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক একটি ডিজেল চুক্তি এবং মস্কোর ওপর থেকে নতুন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প সমর্থন জানান, যা কিয়েভের সঙ্গে তার সম্পর্কের ব্যবধান বাড়িয়েছে। জেলেনস্কির মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জানেন না তিনি কী বলছেন এবং সত্যি বলতে ইউক্রেনের পক্ষে অন্য কারও এখন দরকষাকষি করা উচিত।

আগামী ১৮-১৯শে নভেম্বর চীনের শেনচেন শহরে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন—তিন দেশই সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কোর সুবিধাজনক শর্তে একটি শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে পুতিন নিজেও এমন ত্রিপক্ষীয় বৈঠক চাইছেন। এ বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, তিন রাষ্ট্রপ্রধানের চীনে উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা থেকেই সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে বৈঠক বা এর আলোচ্যসূচি নিয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব বা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়নি। অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত এই বৈঠক সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

এদিকে কিয়েভকে বাদ দিয়ে এমন বৈঠকের প্রস্তাবের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুতিনকে বিশ্বনেতার পরিবর্তে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এ ধরনের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক কেবল পুতিনকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতেই উৎসাহিত করবে। সিবিহার মন্তব্যের জবাবে ক্রেমলিন মুখপাত্র পেসকভ বলেন, কিয়েভের দায়িত্বে থাকা কারো অংশগ্রহণ ছাড়া চূড়ান্ত সমাধান সম্ভব নয়। তবে রাশিয়ার স্পষ্ট অবস্থান হলো, চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি প্রস্তুত হওয়ার আগে পুতিন জেলেনস্কির সঙ্গে কোনো বৈঠকে বসবেন না। পাশাপাশি সামরিক আইনের অধীনে পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে চুক্তিতে স্বাক্ষর করার ক্ষেত্রে জেলেনস্কির আইনি কর্তৃত্ব নিয়েও বারবার প্রশ্ন তুলেছে মস্কো।