দক্ষিণ-পশ্চিম কলম্বিয়ার নারিনো বিভাগে একটি অবৈধ সোনার খনি ধসে পড়ে অন্তত ১৪ জন খনি শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় আরও সাতজন আহত হয়েছেন। এছাড়া দুর্ঘটনাকবলিত খনিটিতে এখনও ১২ থেকে ১৫ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নারিনো বিভাগের সান্তা বারবারা দে ইসকুয়ান্দে পৌরসভার চাম্বেরো নামের এক দুর্গম গ্রামীণ এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘন বৃষ্টি-অরণ্যে ঘেরা এই অঞ্চলটিতে পৌঁছানোর জন্য কেবল নৌকা কিংবা ছোট উড়োজাহাজ ছাড়া অন্য কোনো পরিবহন ব্যবস্থা নেই। অত্যন্ত জটিল যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং ঘটনার সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে উদ্ধারকর্মীদের চরম বেগ পেতে হচ্ছে।
নারিনোর গভর্নর লুইস আলফোনসো এসকোবার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরপরই প্রাথমিক অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেয়া এক বার্তায় তিনি নিশ্চিত করেন যে, খনিটি সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক বা অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। এই সংকট মুহূর্তে নিখোঁজ শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করা, আহতদের চিকিৎসাসহ প্রাণ বাঁচানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোকেই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে বলে গভর্নর উল্লেখ করেন।
কলম্বিয়ার গ্রামীণ অঞ্চলগুলোতে কোনো ধরনের প্রশাসনিক অনুমোদন কিংবা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা অবকাঠামো ছাড়াই অনিয়ন্ত্রিতভাবে খনি খনন অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থা না থাকায় এসব অনানুষ্ঠানিক খনিতে প্রায়শই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এর আগে গত আগস্ট মাসেও নারিনো প্রদেশের পলিকার্পা পৌরসভায় একই ধরনের খনি ধসের ঘটনায় ১৩ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল।