নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার আনন্দ আর পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন আনোয়ার হোসেন (৩০)। ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আনোয়ার সম্প্রতি একটি নতুন প্রকল্পে চাকরি পেয়েছিলেন। বাড়ি ফিরে মা-বাবাকে জড়িয়ে ধরা, স্ত্রীকে নতুন কর্মজীবনের গল্প শোনানো আর আদরের সন্তানদের বুকে টেনে নেওয়ার যে স্বপ্ন তিনি বুনেছিলেন, নাটোর-পাবনা মহাসড়কের একটি দুর্ঘটনা সেই সব স্বপ্ন চিরতরে কেড়ে নিল।

মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। বরিশাল থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন। হতাহতদের উদ্ধার করে নাটোর ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আনোয়ার হোসেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের চাঁইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের পুঠিয়ায় বাস থেকে নেমে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার। বাড়ি ফেরার খবর মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের আগেই জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু স্বজনদের সঙ্গে তার আর দেখা হলো না। তার মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছাতেই সেখানে শোকের মাতম শুরু হয়। মা-বাবার কাছে সন্তানের ফিরে আসার অপেক্ষা পরিণত হয় চিরবিচ্ছেদের বেদনায়।

আনোয়ারের স্ত্রী ফাতেমা বিবি দুই সন্তানকে নিয়ে বাগমারার কোনোপাড়া গ্রামে বাবার বাড়িতে ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে তিনি বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। সন্তানদের নিয়ে স্বামীর বাড়িতে ফিরলেও সংসারের অনিশ্চয়তা আর বাবাকে হারানো সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার শোক যেন আরো ভারী হয়ে উঠেছে। নতুন চাকরি ঘিরে যে পরিবারটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ছিল, আনোয়ারের মৃত্যুতে সেখানে এখন কেবল মৃত্যুসংবাদ আর শোকের অন্ধকার নেমে এসেছে।