ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের কট্টরপন্থি নেতৃত্বের কারণে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি বা সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দেশটির মূল ক্ষমতা শিয়া ধর্মীয় নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় দুদেশের সম্পর্কের বরফ গলার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
গত ২০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মার্কিন সম্প্রচার সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, “ইরানি শাসকদের সাথে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন… দুর্ভাগ্যবশত, তারা দক্ষ আলোচক নয় এবং কট্টরপন্থী শিয়া ধর্মীয় নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “তারা ধর্ম দ্বারা পরিচালিত হয়। তাদের সাথে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন।”
এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দু’পক্ষ কয়েকবার যুদ্ধবিরতির চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। গত জুন মাসে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তি’ নামে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হলেও এসব উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয়নি। এ বিষয়ে মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরান সফর করেছিলেন। সেখানে তিনি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারের শীর্ষ মুখপাত্র বাঘের ঘালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে বাঘের ঘালিবাফ জানান, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা শুরু করবে না তেহরান।
রুবিও যুদ্ধের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের হামলার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি এ ধরনের হামলাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ‘নজিরবিহীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং এই কৌশলকে নাৎসি বাহিনীর সাবমেরিন কৌশলের সঙ্গে তুলনা করেন। রুবিও বলেন, “আমরা এমন একটি দেশকে দেখছি, যারা প্রকাশ্যে ঘোষণা করছে যে তারা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমরা এমন কিছু আর দেখিনি। এটি এমন একটি বিষয়, যার নিন্দা জানাতে বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
সে বৈঠকে বাঘের ঘালিবাফ বলেছেন, তেহরান ওয়াশিংটনকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ ৭টি শর্ত দিয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হওয়ার আগ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা শুরু করবে না তেহরান।