বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দাকোপের নলিয়ানসহ সুন্দরবন উপকূলের দুর্গম জনপদগুলোতে মানুষের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনার আশা। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, নদীভাঙন, সুপেয় পানির তীব্র সংকট এবং দুর্বল যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় জর্জরিত এই অঞ্চলের মানুষ এই সফরকে উন্নয়নের নতুন দুয়ার হিসেবে দেখছেন।

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠসহ পুরো এলাকায় পুলিশ, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এছাড়া সম্ভাব্য অবতরণস্থল নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নলিয়ান বাজারের পশ্চিমের পাকা সড়ক থেকে কোস্টগার্ড কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তায় ইট বিছিয়েছে এবং বিদ্যালয় মাঠে হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রীর নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণের কথা রয়েছে। সেখান থেকে নৌপথে তিনি মোংলার নৌঘাঁটিতে যাবেন। এরপর তার মোংলা বন্দরের জেটি ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবনে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের স্থান পরিদর্শন নিয়েও আলোচনা চলছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং এলএনজি টার্মিনালের মতো প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, কেবল বড় প্রকল্প নয়, বরং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সুপেয় পানির সংকট নিরসন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ বৃদ্ধির মতো মৌলিক সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। পর্যটনের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় পিছিয়ে থাকা এই জনপদটি প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে দীর্ঘদিনের সমস্যার সুরাহা পাবে বলে আশা করছেন তারা।