সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দর এবং আরামকো তেল শোধনাগারে চালানো পৃথক হামলায় চারজন নিহত এবং দশজন আহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় দুই জন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কেউ কেউ গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন। তবে কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরটিতে ব্যবহৃত ড্রোন বা এর উৎস সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

একই দিনে আরামকো তেল শোধনাগারের শেবা তেলক্ষেত্রকে লক্ষ্য করেও একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং সরকারি সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সির ভাষ্যমতে, সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটিকে মাঝপথে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। তবে এর ধ্বংসাবশেষ আরামকোর স্থাপনার সীমানার বাইরে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাড়ির ওপর পড়লে দুই ব্যক্তি নিহত হন। মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, এই ঘটনায় তেল উৎপাদন বা অন্যান্য কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় মদিনা ও পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে জানান, চারটি ড্রোন মাঝপথেই ধ্বংস করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে পূর্বাঞ্চলে আরেকটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়। তবে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এই হামলার দায় অস্বীকার করেছে। হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, মদিনার দিকে তারা কোনো ড্রোন পাঠায়নি এবং কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো হুথিদের দাবি অনুযায়ী, তারা দক্ষিণ ইয়েমেনের আল-মুকাল্লা বিমানবন্দরে সরকারপন্থি বাহিনীর সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, অক্টোবর মাসের শুরু থেকে বিমানবন্দরগুলোতে হুথি হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে ১০ই অক্টোবর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০৮ জন আহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে দুই জন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় বিমান ও কামানের গোলাবর্ষণে অন্তত ছয়জন নিহত এবং ১১ জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে হুথি-নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম।