বৈশ্বিক সাইবার হামলার সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে আগাম সতর্কতা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ওয়েবসাইট বন্ধ থাকলেও দেশের ব্যাংক গ্রাহকদের লেনদেনে কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না; ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং মোবাইল ব্যাংকিং সেবা স্বাভাবিক নিয়মে চালু রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত ও চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার আশঙ্কার কারণেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে নতুন কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না, কারিগরি দল তা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করে দেখছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, ওয়েবসাইট সাময়িক বন্ধ থাকলেও সাধারণ গ্রাহকদের লেনদেনে কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে না।

এই উদ্ভূত পরিস্থিতির মূলে রয়েছে বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইটে বহুল ব্যবহৃত 'পিএইচপি' (PHP) প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি। সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে একজন গবেষক পিএইচপি ব্যাকএন্ডে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দুটি নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করেন। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে চালুকৃত মোট ওয়েবসাইটের প্রায় ৭০ শতাংশই এই নির্দিষ্ট প্রোগ্রামিং ভাষার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।

বর্তমানে সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যাংকিং খাত, ই-কমার্স, সংবাদমাধ্যম ও নানা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার মূল ভিত্তি ইন্টারনেট ও সফটওয়্যার। এসব প্ল্যাটফর্মের বড় একটি অংশ পিএইচপিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পিএইচপিতে মারাত্মক ত্রুটি ধরা পড়ার পর বুধবার রাত থেকেই বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সরকার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ ওয়েবসাইট বন্ধ করে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে শুরু করে। তবে ওয়েবসাইট বন্ধের পরও বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ বার হ্যাকিংয়ের চেষ্টার তথ্য সামনে এসেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিকে অভূতপূর্ব হিসেবে বর্ণনা করেছেন বিবিসির সাইবারবিষয়ক প্রতিনিধি জো টাইডি। তিনি উল্লেখ করেন, আইটি টিমগুলো মারাত্মক সাইবার হামলার হাত থেকে নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নেওয়ায় একের পর এক ওয়েবসাইট অফলাইনে চলে যাওয়ার এমন নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। বাড়তি নিরাপত্তা হিসেবে যুক্তরাজ্যের এডিনবরা কাউন্সিলের ওয়েবসাইট এবং বিবিসি ওয়েবসাইটটির জনপ্রিয় 'ডক্টর হু' সেকশন বন্ধ রাখা হয়েছে। একইভাবে জাপান, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসের একাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটও অফলাইন করে দেওয়া হয়। এমনকি যেসব সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জনগণকে এই হুমকির গুরুত্ব বোঝাতে সতর্ক করছিল, তারাও নিজেদের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এই সার্বিক বৈশ্বিক হুমকির প্রেক্ষাপটেই বাংলাদেশ ব্যাংক বাড়তি সতর্কতা হিসেবে নিজেদের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।