পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকি পর্যালোচনা করে দ্রুত ওয়েবসাইটটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, এটি কেবল বাংলাদেশ ব্যাংকের সমস্যা নয়, বরং বিশ্বব্যাপী সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই ওয়েবসাইটটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝুঁকি বিশ্লেষণ শেষে এটি পুনরায় চালু করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, জরুরি নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট এখন বন্ধ রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র অনুযায়ী, ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত ও তা সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদরা কাজ করছেন। একই কারণে পিএইচপিভিত্তিক বেশ কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইটও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিএইচপির এই ত্রুটি ব্যবহার করে হামলাকারীরা দূর থেকে পাসওয়ার্ড ছাড়াই সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা কার্যকর করতে পারে। এর ফলে সার্ভারের ফাইল, ডেটাবেজ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল সেবায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তবে পিএইচপি ব্যবহার করা সব ওয়েবসাইটই সমান ঝুঁকিতে নেই। ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে ব্যবহৃত সংস্করণ, নিরাপত্তা হালনাগাদ ও সার্ভারের সুরক্ষাব্যবস্থার ওপর। সরকারের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ন্যাশনাল পোর্টাল ফ্রেমওয়ার্কের আওতাধীন প্রায় ৩৬ হাজার ৫০০টি ওয়েবসাইট পিএইচপিতে তৈরি নয়, তাই এই ত্রুটির কারণে সেগুলো সরাসরি ঝুঁকিতে নেই। তবে অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত প্রযুক্তি যাচাই করা হচ্ছে।