ত্রিদেশীয় সিরিজের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ইংল্যান্ডের দেওয়া ৪৩০ রানের পর্বতসম লক্ষ্য তাড়া করে ২ উইকেটের অবিশ্বাস্য জয় ছিনিয়ে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে এই জয়ের মধ্য দিয়ে ওয়ানডে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড গড়ল লঙ্কানরা। হ্যারি ব্রুকের দ্রুততম দ্বিশতকের কীর্তিকে ম্লান করে দেওয়া এই ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক সেঞ্চুরিয়ান পাভান রত্মানায়েকে এবং ৯৭ রান করে অবদান রাখা আভিস্কা ফার্নান্দো ও দাসুন শানাকা।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই কঠিন চাপের মুখে পড়েছিল শ্রীলঙ্কা। দলের মাত্র ২৪ রানেই সাজঘরে ফেরেন দুই উদ্বোধনী ব্যাটার। কামিন্দু মেন্ডিস ১৮ রান করে জশ টাঙের শিকার হন, আর অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস কোনো বল না খেলেই রান আউট হয়ে যান। প্রাথমিক এই বিপর্যয় সামলে লঙ্কানদের ম্যাচে ফেরান আভিস্কা ফার্নান্দো ও পাভান রত্মানায়েকে। তৃতীয় উইকেটে এই দুজন ১৬৬ রানের এক বিধ্বংসী জুটি গড়ে তোলেন। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৩ রান দূরে থাকতে আভিস্কা (৯৭) ক্রেগ ওভারটনের বলে ক্যাচ দিলে ১৯০ রানে পতন ঘটে তৃতীয় উইকেটের।

আভিস্কার বিদায়ের পরও শ্রীলঙ্কার রানের চাকা স্থবির হয়নি। চতুর্থ উইকেটে পাভান রত্মানায়েকের সঙ্গে যোগ দেন দাসুন শানাকা এবং দুজন মিলে আরও ১৩৩ রান যোগ করেন। এই জুটিতেই চোখধাঁধানো সেঞ্চুরি পূরণ করেন পাভান। ১৩০ রান করার পর স্যাম কারানের বলে তিনি আউট হলে ৩২৩ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় দল। এরপর আভিস্কার মতো দাসুন শানাকাও ৩ রানের আফসোসে পুড়ে ৯৭ রানে আউট হন, শ্রীলঙ্কার স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ৩৬৩। পরবর্তীতে জানিথ লিয়ানেজকে সঙ্গ দিয়ে সাহান আরচ্চিগে ১৩ রান করে আউট হলে ৪০৬ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ৮ রান। রোমাঞ্চে ভরা সেই ওভারের প্রথম বলে জানিথ লিয়ানেজ এক রান নেন। তবে পরের দুই বলে টানা ভেল্লালাগে ও ইশান মালিঙ্গাকে বোল্ড করে ইংল্যান্ডকে দারুণভাবে ম্যাচে ফেরান পেসার জশ টাঙ। হ্যাটট্রিক বলটি আসিথা ফার্নান্দো থার্ড ম্যান অঞ্চলে ঠেলে দিয়ে এক রান তুলে নিলে শেষ ২ বলে প্রয়োজন দাঁড়ায় ৬ রান। তবে এতটুকু বিচলিত না হয়ে জশ টাঙের পরের বলটি সীমানা ছাড়া করেন লিয়ানেজ, আর তাতেই ২ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা।

৪২৯ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৪ রানেই দুই উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। কামিন্দু মেন্ডিস ১৮ ও অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস কোনো বল না খেলেই হন রান আউট। কামিন্দকে বোল্ড করেন জশ টাঙ।