ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি, রণতরিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বাঙ্কারবিধ্বংসী বোমা তোলা এবং ইসরাইলের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধক্ষমতা মোতায়েন করছে। এর অংশ হিসেবে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরি এবং আরেকটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। অনেক বিশ্লেষক এসব পদক্ষেপকে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাব্য প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন। মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক দাবি করেছেন, সপ্তাহান্তেও হামলা হতে পারে। আবার কয়েকজন বিশ্লেষকের ধারণা, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এই হামলা শুরু হতে পারে। তবে সম্ভাব্য হামলার সময় নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনে নতুন করে অস্ত্র ও গোলাবারুদ তোলা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, রণতরিতে দূর থেকে স্থল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসের উপযোগী বাঙ্কারবিধ্বংসী বোমা মজুত করা হচ্ছে। রণতরিতে থাকাকালীন সাংবাদিক শেলবি হলিডে বিপুলসংখ্যক গোলাবারুদের বাক্স স্তূপ করে রাখতে দেখেছেন। একই সময়ে মার্কিন বাহিনী সম্ভাব্য নতুন অভিযানের জন্য যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করছিল। এসব অস্ত্র মূলত ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা এবং সুরক্ষিত সামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হানার জন্য তৈরি করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বর্তমান সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা। সেপ্টেম্বরের শুরুর পর থেকে স্থলভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের হামলা তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকলেও নতুন মার্কিন সামরিক তৎপরতা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের প্রচলিত সামরিক স্থাপনাগুলো আগের হামলাতেই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নতুন করে হামলা চালানো হলে তার প্রভাব বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দ্রুতই সংঘাতের অবসান ঘটানো সম্ভব। তবে কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে সংকটের সমাধান হবে, নাকি সামরিক অভিযান শুরু হবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই এখন পুরো পরিস্থিতির মোড় নির্ভর করছে।