ব্যবসার নামে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অন্তত ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রমজান আলী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে শেরপুর জেলা শহরের দীঘারপাড় মহল্লায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁকে আটক করে শেরপুর সদর থানা পুলিশ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে ছিলেন।
আটক রমজান আলী শেরপুর সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের শুনিডুবারপাড় এলাকার এনামুল হকের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বাজিতখילה ও ভাতশালা ইউনিয়নসহ পৌরসভার দীঘারপাড় এবং বিভিন্ন এলাকার কৃষক, ধান ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের টার্গেট করতেন তিনি। ব্যবসায় বেশি লাভের আশ্বাস দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে এক এক করে বিশাল অঙ্কের মূলধন হাতিয়ে নেন তিনি।
শনিবার রাতে তাঁর আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় ভুক্তভোগীরা দলে দলে থানায় জড়ো হতে থাকেন। প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা একের পর এক অভিযোগ জানাতে শুরু করলে থানা চত্বরে ভিড় বাড়ে। পুলিশ জানায়, এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রমজান আলীর বিরুদ্ধে ১১ জন ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, কৃষি জমি বিক্রি, ফসলের আয় কিংবা ব্যবসার জন্য জমানো কষ্টার্জিত সঞ্চয় রমজান আলীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন তাঁরা। বেশি লাভের আশায় অনেকে নিজের জমানো টাকার পাশাপাশি আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করেও এই ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিলেন। এখন টাকা ফেরত না পেলে তাঁদের পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে। পাওনা টাকা দ্রুত ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থার পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে শেরপুর সদর থানার সেকেন্ড অফিসার আমিনুল ইসলাম জানান, রমজান আলীকে গ্রেফতারের পর থেকেই টাকা ফেরত চেয়ে ভুক্তভোগীরা থানায় আসছেন। এ পর্যন্ত ১১টি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে প্রতারণাকৃত মোট অর্থের পরিমাণ এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।