ফুটবল মাঠে আবার বিতর্ক তৈরি করেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সান্তোস ও বাহিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হলেও মূল আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে এই ফরোয়ার্ডের মেজাজ ও অসদাচরণ। খেলার মাঝে একাধিকবার প্রতিপক্ষের সঙ্গে তর্কে জড়ানো এবং লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার সময় হুমকির ঘটনায় সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন তিনি।

ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বাহিয়ার মিডফিল্ডার রদ্রিগো নেস্টরের সঙ্গে বল দখলের একপর্যায়ে সংঘর্ষ হলে মেজাজ হারিয়ে বসেন নেইমার। প্রতিপক্ষের শরীরে বল ছুড়ে মারায় তাকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। তবে শাস্তির পরও শান্ত হননি সান্তোসের ১০ নম্বর জার্সিধারী ফরোয়ার্ড; নেস্টরের পাশাপাশি বাহিয়ার কোচ রজেরিও সেনির সঙ্গেও তর্কে লিপ্ত হন তিনি। বিরতির সময় নেস্টর অভিযোগ তুলে বলেন, নেইমার কেবল তাকেই নয়, পুরো বাহিয়া ক্লাবকে অসম্মান করে কথা বলেছেন, যার ভাষা শিশুদের সামনে প্রকাশ করার মতো নয়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে রূপ নেয়। মাঠে ফিরেই নেস্টরের সঙ্গে পুনরায় বিবাদে জড়ান নেইমার। এবার মুখ হাত দিয়ে ঢেকে কিছু একটা বলেন তিনি। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে রেফারি সাভিও সাম্পাইওর দৃষ্টিগোচর করেন নেস্টর। ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনা শেষে নেইমারের এই আচরণকে শাস্তিযোগ্য অসদাচরণ হিসেবে চিহ্নিত করে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।

লাল কার্ড পাওয়ার পর মাঠের উত্তাপ আরও বাড়ে। ক্ষুব্ধ নেইমার নেস্টরের দিকে তড়িঘড়ি করে তেড়ে যান। ম্যাচের অফিসিয়াল বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, এ সময় তিনি বাহিয়ার খেলোয়াড় মারকোস ভিক্টরের গলা চেপে ধরেন। পরবর্তীতে সতীর্থরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ব্রাজিলিয়ান ইনফ্লুয়েন্সার পেদ্রো লোপেসের কাছে নিজের পক্ষে সাফাই গান নেইমার। তিনি দাবি করেন, তারা মূলত হাসাহাসি করছিলেন। মুখ ঢেকে কথা বলা ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করলেও নেইমারের দাবি, তিনি কিছু বলার আগেই নেস্টর রেফারির কাছে অসত্য অভিযোগ করেছেন। তবে স্পোরটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মাঠ ছাড়ার মুহূর্তে নেস্টরকে ‘দেখে নেওয়ার’ স্পষ্ট হুমকি দেন এই তারকা।

এই শাস্তির ফলে বেশ বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে সান্তোস। পূর্বেই হলুদ কার্ডের বাধ্যবাধকতার কারণে পালমেইরাসের বিপক্ষে আসন্ন এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ঝুলছিল নেইমারের ওপর। এবার নতুন করে লাল কার্ড পাওয়ার কারণে আরও এক ম্যাচসহ সর্বমোট দুই ম্যাচের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে তাকে।