বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়েছে। তেলের দাম কমে আসায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রশমিত হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্বর্ণের দামে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৪ ডলারে পৌঁছেছে।

বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডা জানান, তেলের দাম কমে আসায় স্বর্ণের বাজার কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। তবে ফেডের মুদ্রানীতির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকায় এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সীমিত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, স্বর্ণের দামের গতিপথ মূলত সুদের হারের প্রত্যাশা ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির ওপর নির্ভর করবে।

গত সপ্তাহে ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর সোমবার তেলের দাম কিছুটা কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখলেও ইয়েমেনের হুথিদের সৌদি আরবে হামলা অব্যাহত থাকায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি।

বাজার সংশ্লিষ্টরা এখন আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ফেডের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছেন। বৈঠকের পরদিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচকের (পিসিই) তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে, যা মূল্যস্ফীতি পরিমাপে ফেডের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। বাজারে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার প্রত্যাশা থাকলেও ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৪ দশমিক ১৯ ডলার হয়েছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ০.২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৪৮ দশমিক ৩০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪৬ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।