মানবজাতির সুপ্রাচীন ও প্রাগৈতিহাসিক সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হলো ইরান। প্রাচীন পারস্য সাম্রাজ্যের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য থেকে শুরু করে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব পর্যন্ত দেশটির দীর্ঘ ইতিহাস নানা উত্থান-পতনের গল্পে ভরপুর। পশ্চিম এশিয়ার ইউরেশিয়ার কেন্দ্রে ও হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ত্রিভুজাকৃতির ভৌগোলিক অবস্থানে বিদ্যমান এই রাষ্ট্রটি মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং বিশ্বের ১৭তম বৃহৎ দেশ। ভূকৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই ভূখণ্ডের উত্তর-পশ্চিমে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান, উত্তরে কাস্পিয়ান সাগর, উত্তর-পূর্বে তুর্কমেনিস্তান, পূর্বে আফগানিস্তান, দক্ষিণ-পূর্বে পাকিস্তান, দক্ষিণে পারস্য ও ওমান উপসাগর এবং পশ্চিমে তুরস্ক ও ইরাক অবস্থিত। ১৬ লাখ ৪৮ হাজার ১৯৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশটি বর্তমানে ৩১টি প্রশাসনিক প্রদেশে বিভক্ত।

ইরান শব্দটি মূলত প্রাচীন ফার্সি 'এরাম' শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ 'আর্যদের দেশ বা ভূমি'। অঞ্চলটির জাতিগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয় বহনকারী এই শব্দটি ঐতিহাসিকভাবে পশ্চিমা বিশ্বে ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত 'পার্সিয়া' নামে পরিচিত ছিল। বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে দেশটির জনসংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়লেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জন্মহার কমেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরের আদমশুমারি অনুযায়ী দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৯১.৫ মিলিয়ন। সেখানে প্রতি হাজার জনসংখ্যায় জন্মহার ১৪.৩ জন এবং মৃত্যুহার ৫.৩ জন। ইরানিদের গড় আয়ু ৭৫.৬ বছর, যার মধ্যে পুরুষদের ৭৪.৩ এবং নারীদের ৭৭.১ বছর।

ইতিহাসবিদরা ইরানের দীর্ঘ ইতিহাসকে প্রধানত তিনটি যুগে ভাগ করেন। প্রায় ১ লাখ বছর আগে শুরু হওয়া প্রাগৈতিহাসিক যুগ শেষ হয় খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দের শুরুতে। এরপর খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দের প্রথমার্ধজুড়ে বিস্তৃত প্রাথমিক যুগে সংগঠিত সমাজ ও রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে ওঠে। খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ থেকে চতুর্থ শতাব্দী পর্যন্ত বিস্তৃত রাজবংশীয় যুগে পারস্যের প্রকাণ্ড সাম্রাজ্য বিস্তৃত হয়। খ্রিষ্টপূর্ব ৫৫৯ অব্দে আখামেনিদ সাম্রাজ্যের উত্থানের আগে মেডিস রাজবংশ একে একটি শক্তিশালী রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলে। পরবর্তীতে সেলুসিড, পার্থিয়ান ও সাসানীয় রাজবংশ এই অঞ্চল শাসন করে। সপ্তম শতাব্দীতে মুসলিম আরবদের বিজয়ের পর এখানে ইসলাম ধর্মের প্রচার ঘটে এবং পরবর্তীতে ১৫০১ সালে প্রতিষ্ঠিত সাফাভি রাজবংশ শিয়া ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করে। সাফাভিদের পর কাজর ও পাহলভি রাজবংশ দেশকে আধুনিকীকরণের দিকে নিয়ে যায়। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের মাধ্যমে শাহ রেজা পাহলভির রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং গঠিত হয় আধুনিক ইসলামি প্রজাতন্ত্র।

এককেন্দ্রিক খোমেনিবাদী রাষ্ট্রপতিশাসিত এই প্রজাতন্ত্রের নীতিবাক্য হলো 'স্বাধীনতা, মুক্তি ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র'। দেশটির জাতীয় সংগীত 'সোরুদে মেল্লিয়ে জমহুরিয়ে ইসলামিয়ে ইরান'। রাষ্ট্রটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, রাষ্ট্রপতি মাসউদ পেজেশকিয়ান, উপরাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ রেজা আরিফ এবং প্রধান বিচারপতি গোলাম হুসাইন মুহসিনি এজেই। আইনসভার নাম ইসলামি মজলিসে শুরা। রাজধানী ও বৃহত্তম শহর তেহরান। ফার্সি সরকারি ভাষা হলেও আর্মেনীয়, অশুরীয় নব্য-আরামীয়, আজেরি, কুর্দি, লরি, বেলুচি, আরবি ও তুর্কমেনীয় ভাষার প্রচলন রয়েছে। শিয়া ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হলেও খ্রিষ্টধর্ম, ইহুদিধর্ম ও জরথুস্ত্রবাদের অনুসারীরাও সেখানে বাস করেন।

২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জন্য সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় সরকারের প্রস্তুতকৃত প্রথম বাজেটে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয় ২,৪৬২,০০০ বিলিয়ন টমান। এতে প্রাকৃতিক গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ নির্ধারণের পাশাপাশি সম্প্রচার খাতের বরাদ্দ ৪৩ শতাংশ বাড়ানো হয়। ন্যূনতম মজুরি উপার্জনকারীদের আয় ১০ শতাংশ এবং উচ্চ-আয়ের গোষ্ঠীর কর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১৮ থেকে ২০ শতাংশ বৃদ্ধির পাশাপাশি সম্পদ, যানবাহন ও আবাসনের ওপর নতুন কর যুক্ত করা হয়।

অর্থনৈতিক দিক থেকে ইরান একটি মিশ্র ও রূপান্তরশীল ব্যবস্থার দেশ, যেখানে একটি বিশাল সরকারি খাত বিদ্যমান। দেশটির জিডিপি প্রায় ৪৩৯.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং মাথাপিছু আয় প্রায় ৫,৪১৫.২১ মার্কিন ডলার। অর্থনীতিতে তেল ও গ্যাসের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি; তেল ও গ্যাস খাতের ওপর দেশের ৬০ শতাংশ অর্থনীতি নির্ভর করে। বিশ্বের ১০ শতাংশ তেল ও ১৫ শতাংশ গ্যাস ধারণকারী ইরান বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম তেল এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্যাস মজুতকারী দেশ। তবে তেহরান স্টক এক্সচেঞ্জে ৪০টিরও বেশি শিল্প খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইরান প্রচুর পরিমাণে আপেল, গম, যব, কমলা, আখ, আলু, সবজি ও পোল্ট্রি উৎপাদনের পাশাপাশি কার্পেট, পেট্রোকেমিক্যাল ও বিভিন্ন হস্তশিল্প রপ্তানি করে। ক্রয়ক্ষমতার সমতা অনুযায়ী বিশ্বের ১৮তম অর্থনীতির এই দেশটি ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হবে বলে গোল্ডম্যান স্যাক্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানি সংস্কৃতির অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম কার্পেট ও কারুশিল্প। বিভিন্ন অঞ্চলের হাতেবোনা বিশেষ নকশার কার্পেট দেশজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছে। এছাড়া মখমল, উলের ব্রোকেড, শাল, কাপড়ের জুতা তৈরির পাশাপাশি খোরাসানের ফিরোজা কাজ এবং পারস্য উপসাগরের প্রাকৃতিক মুক্তার বেশ সুনাম রয়েছে। ইসফাহান, শিরাজ ও তেহরানে কাঠের সাজসজ্জার সামগ্রী এবং হামাদানে মৃৎশিল্প ব্যাপকভাবে উৎপাদিত হয়। মাশহাদ পাথরশিল্পের প্রধান কেন্দ্র। স্থাপত্যকলায় এলামাইট, আচেমেনিয়ান ও প্রাক-ইসলামি যুগের পাথরের নিদর্শনগুলোর পাশাপাশি সেলজুক, ইল-খানিদ ও সাফাভিদ যুগের মসজিদ-মাদ্রাসা বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় ইরানি স্থাপত্য কাউন্সিল আধুনিক চাহিদা ও ঐতিহ্যবাহী শৈলীর মিশ্রণকে উৎসাহিত করে, যার প্রতীক হলো আধুনিক 'আজাদি বা স্বাধীনতা টাওয়ার' (পূর্বনাম শাহিয়াদ টাওয়ার)।

সাহিত্যের ক্ষেত্রে ফার্সি ভাষা ও সাহিত্যের অবদান বিশ্বখ্যাত। ফেরদৌসি, নিজামি, হাফেজ, জামি ও রুমির মতো ধ্রুপদী লেখকদের ঐতিহ্য ধরে রেখে পরবর্তীতে শাহরনৌশ পারসিপুর ও মনিরু রাভানিপুরের মতো আধুনিক লেখকরা নতুন সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন। প্রকাশনায় সেন্সরশিপের কারণে অনেক সাহিত্যিক বিদেশে নির্বাসনে থেকে কাজ চালিয়ে যান। দেশের প্রধান সংবাদপত্রের মধ্যে রয়েছে 'ইত্তিলাআত' ও 'কাইহান'। সংস্কৃতি ও ইসলামি নির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয় সরকারি বার্তা সংস্থা 'আইআরএনএ'। তাছাড়া রেডিও-টেলিভিশন সম্প্রচার সম্পূর্ণভাবে সরকার নিয়ন্ত্রিত।

ক্রীড়া ক্ষেত্রে কুস্তি, ঘোড়দৌড় ও ঐতিহ্যবাহী শরীরচর্চা জনপ্রিয় হলেও পরবর্তীতে ফুটবল ও ভলিবল ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়। ১৯৪৮ সালে অলিম্পিকে আত্মপ্রকাশকারী দেশটি বেশিরভাগ পদক পেয়েছে ভারোত্তোলন, মার্শাল আর্ট ও কুস্তিতে। ফুটবল দলটি ১৯৬৮, ১৯৭৪ ও ১৯৭৬ সালে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে এবং ১৯৭৮ সালে বিশ্বকাপে আত্মপ্রকাশ করে। জাদুঘরের ক্ষেত্রে তেহরানের গুলিস্তান প্রাসাদ জাদুঘর (১৮৯৪), সর্ব ত্রাণকর্তার ক্যাথেড্রাল জাদুঘর (১৯০৫), এবং তেহরান আধুনিক শিল্প জাদুঘর (১৯৭৭) উল্লেখযোগ্য।

সামরিক ক্ষমতার বিচারে গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তালিকায় ইরান বিশ্বের ১৪তম স্থানে রয়েছে। ৯৯৫ কোটি ডলার প্রতিরক্ষা বাজেটের এই দেশটিতে নিয়মিত সৈন্য রয়েছে ১১ লাখ ৮০ হাজার এবং রিজার্ভ সৈন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার। মোট ৫৫১টি সামরিক বিমানের মধ্যে ১৮৬টি যুদ্ধবিমান, ২৩টি অ্যাটাকিং বিমান, ৮৬টি পরিবহন বিমান, ১০২টি প্রশিক্ষণ বিমান এবং ১২৯টি হেলিকপ্টার (১৩টি অ্যাটাক) রয়েছে। ১,৯৯৬টি ট্যাংক, ৬৫,৭৬৫টি সাঁজোয়া যান, ৭৭৫টি রকেট আর্টিলারি এবং ৫৮০টি সেল্ফ প্রপেলড আর্টিলারি তাদের অর্সেনালে বিদ্যমান। নৌবহরে রয়েছে ৭টি ফ্রিগেট, ২১টি টহল জাহাজ ও ১৯টি সাবমেরিনসহ ১০১টি যুদ্ধজাহাজ। এছাড়া তাদের ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দাবি জানিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ইরানের আধুনিক ইতিহাসের দুটি প্রধান সংঘাতমূলক ঘটনা হলো ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব এবং ১৯৮০-১৯৮৮ সালের দীর্ঘস্থায়ী ইরাক-ইরান যুদ্ধ। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় শেষ হওয়া সেই যুদ্ধে ইরান শাতিল আরব জলাধারের ওপর অধিকার বজায় রাখে। বর্তমানে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নেতৃত্বে দেশটি অভ্যন্তরীণ ঐক্য ধরে রাখার পাশাপাশি হিজবুল্লাহ, হুতি ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য শিয়া প্রক্সি শক্তির মাধ্যমে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে অবস্থান সুসংহত করেছে।

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান : ইরানে খুব কম জাদুঘর রয়েছে। যেগুলো আছে, সেগুলো তুলনামূলক সাম্প্রতিক উৎপত্তি। দুটি ব্যতিক্রম হলো, তেহরানের গুলিস্তান প্রাসাদ জাদুঘর। যা ১৮৯৪ সালে খোলা হয়। অন্যটি জোলফা (ইসফাহান)-এর সর্ব ত্রাণকর্তার ক্যাথেড্রাল জাদুঘর। যা ১৯০৫ সালে আর্মেনীয় সম্প্রদায় দ্বারা নির্মিত। শিল্পের জন্য নিবেদিত একমাত্র গ্যালারি হলো তেহরান আধুনিক শিল্প জাদুঘর। এটি ১৯৭৭ সালে খোলা হয়। অন্যান্য সুপরিচিত জাদুঘরের মধ্যে রয়েছে ইরানের জাতীয় জাদুঘর (১৯৩৭), তেহরানের নেগারস্তান (১৯৭৫) ও শিরাজের পারস (১৯৩৮)। তেহরানে অবস্থিত জ্ঞানী সমাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রাচীন ইরানি সাংস্কৃতিক সমাজ, ইরানি গণিত সমিতি ও ইরানি মাইক্রোবায়োলজি সোসাইটি। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক, প্রত্নতাত্ত্বিক, নৃতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক বিষয়গুলোর জন্য নিবেদিতপ্রাণ বেশ কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

মিডিয়া ও প্রকাশনা : দৈনিক সংবাদপত্র ও সাময়িকী প্রকাশিত হয় তেহরানে। ইরানের সংস্কৃতি ও ইসলামি নির্দেশনা মন্ত্রণালয় ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি পরিচালনা করে। বিশেষ অনুষ্ঠানে বিদেশি সংবাদদাতাদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও সরকারের অভ্যন্তরে রক্ষণশীল ব্যক্তিদের দ্বারা সম্প্রচার মাধ্যম ও ইন্টারনেটের ওপর সেন্সরশিপ ব্যাপক। ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে ইরানে রাজনৈতিক সংস্কারের প্রসারে সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন ও জার্নাল ব্যাপক অবদান রাখে। সর্বাধিক প্রচারিত সংবাদপত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে 'ইত্তিলাআত' ও 'কাইহান'। ইরানের রেডিও-টেলিভিশন সম্প্রচার কেন্দ্রগুলো সরকার দ্বারা পরিচালিত। অনুষ্ঠানগুলো ফার্সি ও কিছু বিদেশি ভাষার পাশাপাশি স্থানীয় ভাষা ও উপভাষায় সম্প্রচারিত হয়।