প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টায় জাপানের টোকিওতে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-তে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই মূলত জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্ক দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আগামী দিনের উন্নয়ন ও অগ্রগতির যাত্রায় জাপানকে পাশে চায় সরকার। দুই দেশের লক্ষ্য হলো বন্ধুত্বের সম্পর্ককে অর্থনৈতিক সুযোগ ও অভিন্ন সমৃদ্ধির শক্ত ভিতের ওপর রূপান্তর করা।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এ সময় বাংলাদেশের প্রতি গভীর সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, বঙ্গোপসাগর অঞ্চলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে টোকিও অত্যন্ত আগ্রহী। বৈঠকের আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান। এ সময় জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে এবং দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। পরে দুই নেতা একান্ত বৈঠকে মিলিত হন এবং এর আগে তারা নিজ নিজ সফরসঙ্গী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের একে অপরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ২০০৬ সালে জাপানে তাদের সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন। এছাড়া তিনি তারো আসোর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে বৈঠক করেন। মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনায় ইপিএ বাস্তবায়ন, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদনশিল্পে বিনিয়োগের পাশাপাশি কাফকোর আধুনিকায়ন ও দ্বিতীয় সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়। জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ত্বরান্বিত করা, প্রযুক্তি গ্রাম ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি কৃষি আধুনিকায়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার সকালে টোকিও পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে। সফরসঙ্গী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সাথে রয়েছেন ডা. জুবাইদা রহমান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, হুমায়ুন কবির, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রেহান আসিফ আসাদসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় বিদেশ সফর। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তিনি নিউইয়র্ক সফর করেন।