লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলসাদপুর গ্রামে বুধবার বেলা দেড়টার দিকে খোরশেদ আলম (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তিনি ওই গ্রামের খান বাড়ির রুহুল আমিনের ছেলে এবং দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন। পুলিশের তথ্যমতে, নিহত খোরশেদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

নিহতের স্ত্রী আকলিমা আক্তার জানান, খোরশেদ মাটির ব্যবসা করতেন। দুপুরে মোরশেদ ও মজিদ নামের দুজন তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। ঘর থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরই গুলির শব্দ শুনে আকলিমা দৌড়ে গিয়ে দেখেন তাঁর স্বামীর বুক রক্তে ভিজে গেছে। স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

স্ত্রী আকলিমা অভিযোগ করেন, ওয়ালিদ নামের এক ব্যক্তি মাটির ব্যবসা নিয়ে এর আগেও তাঁর স্বামীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছিল। স্বামীকে হারিয়ে এখন পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি শঙ্কিত।

লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল কাজ শুরু করেছে। তিনি দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আশা প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত রোববার রাতে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের পূর্ব নন্দনপুর গ্রামের একটি সুপারিবাগান থেকে জাকির হোসেন নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। মাদক কারবার নিয়ে বিরোধের জেরে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা পুলিশের। জাকিরের বিরুদ্ধেও অস্ত্র ও মাদকের একাধিক মামলা ছিল।

গত রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের পূর্ব নন্দনপুর গ্রামের ডিপুটি বাড়ি এলাকার একটি সুপারিবাগান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।‘মাদক কারবার’ নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।