সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও উপকারী জ্ঞান হলো আল্লাহর আসমাউল হুসনা বা সুন্দর নামগুলো সম্পর্কে জানা। এই নামগুলো মহান আল্লাহর সর্বোচ্চ মর্যাদা, পূর্ণ গুণাবলি এবং সুন্দরতম অর্থের নির্দেশক। ওহির আলো ও নবুয়তের শিক্ষা থেকে আসা এই জ্ঞান মানুষের হৃদয়কে প্রশান্ত করে এবং অন্তরকে আলোকিত করে তোলে। যে ব্যক্তি আন্তরিক বিশ্বাসের সাথে এই নাম ও গুণগুলোকে হৃদয়ে ধারণ করে এবং ইবাদতের মাধ্যমে তা উপলব্ধি করে, তার ঈমান আরও শক্তিশালী হয়। আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা গভীর করার জন্য সৃষ্টিকর্তাকে চেনার বিকল্প নেই, আর তা সম্ভব একমাত্র পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত তাঁর নাম ও গুণাবলি জানার মাধ্যমে।
একজন বান্দা যত বেশি আল্লাহর নাম ও গুণ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবে, ততই সে তাঁর নিকটবর্তী হবে। এই জ্ঞান হৃদয়ে আল্লাহভীতি, বিনয় ও শ্রদ্ধা সৃষ্টি করে। যখন বান্দা উপলব্ধি করে যে আল্লাহ ছাড়া তার আশ্রয়দাতা কেউ নেই, তখন সে কেবল তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। প্রতিটি কাজকর্মে আল্লাহর তত্ত্বাবধান অনুভব করলে মানুষ ভালো কাজে উৎসাহিত হয় এবং নিষিদ্ধ কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখে। সুরা আরাফের ১৮০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, 'আল্লাহর জন্য আছে সুন্দর সুন্দর নাম। কাজেই তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকবে; যারা তাঁর নাম বিকৃত করে তাদের বর্জন করবে; তাদের কৃতকর্মের ফল তাদেরকে দেওয়া হবে।' সুরা তহার ৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ নিজেকে সুন্দর নামগুলোর অধিকারী বলে ঘোষণা করেছেন।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, 'আল্লাহর নিরানব্বই বা এক কম একশটি নাম রয়েছে, যে ব্যক্তি সেগুলো মনে রাখবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।' এই 'মনে রাখা' কেবল মুখস্থ করা নয়, বরং এর অর্থ বুঝে সে অনুযায়ী জীবনযাপন করা এবং কোরআন ও হাদিসে যেভাবে উল্লেখ আছে, সেভাবে আল্লাহর জন্য তা প্রমাণ করা। আল্লাহর সত্তা ও গুণের ক্ষেত্রে কোনো বিকৃতি, অস্বীকার, তুলনা বা মানবীয় রূপ কল্পনা করা যাবে না, কারণ আল্লাহর সত্তা ও গুণের প্রকৃতি শুধু তিনিই জানেন। সুরা শুরা, সুরা মরিয়ম ও সুরা ইখলাসের আয়াতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর সমতুল্য বা সদৃশ কেউই নেই।
আল্লাহ সেই মহান সত্তা যিনি সব সুন্দর নাম ও পূর্ণ গুণের অধিকারী। বান্দার উচিত কোরআনে আল্লাহ নিজের থেকে যা অস্বীকার করেছেন তা অস্বীকার করা, যেমন তিনি অন্যায় করেন না বা অক্ষম নন। আল্লাহর নামগুলো আমাদের জানা দরকার এবং উচ্চারণ, অর্থ ও তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা দরকার। আমাদের উচিত আল্লাহর ইবাদত করা তাঁর এই নামগুলোর অর্থ অনুযায়ী। যদি বান্দা জানে আল্লাহ শক্তিশালী ও প্রজ্ঞাময়, তবে সে কেবল তাঁর ওপরই নির্ভর করবে। যদি জানে আল্লাহ ক্ষমাশীল ও তওবা গ্রহণকারী, তবে সে দ্রুত তওবা করবে। আর যদি জানে আল্লাহ সর্বদ্রষ্টা ও সর্বশ্রোতা, তবে সে পাপ থেকে সতর্ক থাকবে। নবী-রাসুলদের অধিকাংশ দোয়া শুরু হতো আল্লাহর রুবুবিইয়া বা পালনকর্তা গুণের প্রকাশ হিসেবে। সুরা বনি ইসরায়েলের ১১০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, 'বলো, তোমরা আল্লাহ নামে আহ্বান কর বা রহমান নামে আহ্বান কর, তোমরা যে নামেই আহ্বান কর সকল সুন্দর নামই তো তাঁর।'
আল্লাহর ৯৯টি নামের মধ্যে রয়েছে: ১. আল্লাহ, ২. আর-রহমান, ৩. আর-রহিম, ৪. আল-মালিক, ৫. আল-কুদ্দুস, ৬. আস-সালাম, ৭. আল-মুমিন, ৮. আল-মুহাইমিন, ৯. আল-আজিজ, ১০. আল-জাব্বার, ১১. আল-মুতাকাব্বির, ১২. আল-খালিক, ১৩. আল-বারি, ১৪. আল-মুসাওয়ির, ১৫. আল-গফ্ফার, ১৬. আল-কাহহার, ১৭. আল-ওয়াহ্হাব, ১৮. আর-রাজজাক, ১৯. আল-ফাত্তাহ, ২০. আল-আলিম, ২১. আল-কাবিদ, ২২. আল-বাসিত, ২৩. আল-খাফিদ, ২৪. আর-রাফি, ২৫. আল-মুইজ্জ, ২৬. আল-মুজিল্ল, ২৭. আস-সামি, ২৮. আল-বাসির, ২৯. আল-হাকাম, ৩০. আল-আদল, ৩১. আল-লতিফ, ৩২. আল-খবির, ৩৩. আল-হালিম, ৩৪. আল-আজিম, ৩৫. আল-গফুর, ৩৬. আশ-শাকুর, ৩৭. আল-আলি, ৩৮. আল-কবির, ৩৯. আল-হাফিজ, ৪০. আল-মুকিত, ৪১. আল-হাসিব, ৪২. আল-জলিল, ৪৩. আল-করিম, ৪৪. আর-রকিব, ৪৫. আল-মুজিব, ৪৬. আল-ওয়াসি, ৪৭. আল-হাকিম, ৪৮. আল-ওয়াদুদ, ৪৯. আল-মাজিদ, ৫০. আল-বাস, ৫১. আশ-শাহিদ, ৫২. আল-হাক্ক, ৫৩. আল-ওকিল, ৫৪. আল-কাওই, ৫৫. আল-মাতিন, ৫৬. আল-ওয়ালি, ৫৭. আল-হামিদ, ৫৮. আল-মুহসি, ৫৯. আল-মুবদি, ৬০. আল-মুইদ, ৬১. আল-মুহই, ৬২. আল-মুমিত, ৬৩. আল-হাইয়ু, ৬৪. আল-কাইয়ুম, ৬৫. আল-ওয়াজিদ, ৬৬. আল-মাজিদ, ৬৭. আল-ওয়াহিদ, ৬৮. আস-সামাদ, ৬৯. আল-কাদির, ৭০. আল-মুকতাদির, ৭১. আল-মুকাদ্দিম, ৭২. আল-মুআখখির, ৭৩. আল-আউয়াল, ৭৪. আল-আখির, ৭৫. আজ-জাহির, ৭৬. আল-বাতিন, ৭৭. আল-ওয়ালি, ৭৮. আল-মুতাআলি, ৭৯. আল-বারর, ৮০. আত-তাওয়াব, ৮১. আল-মুনতাকিম, ৮২. আল-আফু, ৮৩. আর-রউফ, ৮৪. মালিকুল মুলক, ৮৫. জুল জালালি ওয়াল ইকরাম, ৮৬. আল-মুকসিত, ৮৭. আল-জামি, ৮৮. আল-গানি, ৮৯. আল-মুগনি, ৯০. আল-মানি, ৯১. আদ-দার, ৯২. আন-নাফি, ৯৩. আন-নুর, ৯৪. আল-হাদি, ৯৫. আল-বাদি, ৯৬. আল-বাকি, ৯৭. আল-ওয়ারিস, ৯৮. আর-রশিদ, ৯৯. আস-সবুর।