জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। রায় ঘোষণার সময় হানিফসহ মামলার চার আসামিই পলাতক ছিলেন এবং ট্রাইব্যুনাল তাঁদের অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন।

এই মামলায় অন্য তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান।

আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল। প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৫, ১৭ ও ৩০ জুলাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিতিতে হানিফ তাঁর উসকানিমূলক বক্তব্যকে সমর্থন করেন। এ ছাড়া ২৯ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক আখ্যা দিয়ে হত্যা ও নির্যাতনের উসকানি ও প্ররোচনা দেন। দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হানিফের নির্দেশে ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক সভায় আন্দোলন দমন করতে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে চার আসামির নির্দেশে চালানো গুলিতে আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, বাবুল ফরাজী ও ইউসুফ শেখ শহীদ হন।

মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া গত বছরের ২৫ মার্চ তদন্ত শুরুর মাধ্যমে শুরু হয়। ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয় এবং ৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের পর ৮ ডিসেম্বর সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়, যেখানে মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ১০ জুন যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রাখা হয় এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত সাক্ষী ও নথিপত্র উপস্থাপনের পর ৭ অক্টোবর যুক্তিতর্ক পুনরায় সমাপ্ত হয়। সবশেষে গত মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিলেন।