প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম। পাবনার আতাইকুলা থানায় অবস্থিত পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদারের অফিসে সশস্ত্র হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন স্থানীয় শ্রমিক লীগ ও শ্রমিক দলের নেতা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইজারাদার আব্দুস সালাম এবং তার ভাগিনা রিপন নিজ অফিসে বসে কাজ করছিলেন। রিপন ইজারাদারের সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে ৫ থেকে ৭ জনের একটি মুখোশধারী সশস্ত্র দল অতর্কিত অফিসে ঢুকে পড়ে। দুর্বৃত্তরা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সালামকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে রিপনকেও গুলি করা হয়। গুলিতে দুজনই অফিসের মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর রাতেই পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পুষ্পপাড়া হাটের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহত সালাম বিগত ৭ বছর ধরে ওই হাটের ইজারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন, যা নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। পুলিশ সুপার আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, পুষ্পপাড়া হাটটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় গরুর হাট হিসেবে পরিচিত এবং এখানে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হয়। হাটকে কেন্দ্র করে এলাকাটিতে একটি অপরাধ চক্র গড়ে উঠেছে এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীর সাথেও এর সংযোগ থাকার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নিহত সালামের বড় ভাই পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল লাল পতাকা) আঞ্চলিক নেতা, যিনি সম্প্রতি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
আতাইকুলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।