পাকিস্তান ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ষষ্ঠ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৫৫ রানে পরাজিত করেছে ইংল্যান্ড। গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে মোট ৭১৭ রান সংগ্রহ করেছে, যা ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ড। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৮৬ রান সংগ্রহ করে, যা এই মাঠে দলীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।

ইংল্যান্ডকে বিশাল সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন বাঁহাতি ব্যাটার বেন ডাকেট। তিনি ১৩২ বলে ২৪টি চারের সাহায্যে ১৬৭ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন টম ব্যান্টন, যিনি ৭৫ বলে ৭৪ রান করেন। দলীয় ১৬৩ রানে প্রথম উইকেট পড়ার পরও ইংল্যান্ডের রানের গতি কমেনি। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ৩৪ বলে ৪৪, উইল জ্যাকস ২১ বলে ৩০ এবং জর্ডান কক্স ২৭ বলে ৪৩ রান করেন। স্যাম কারান ১২ বলে ২১ রান করে অপরাজিত থাকেন। শ্রীলঙ্কার বোলারদের মধ্যে এশিথা মালিঙ্গা ১০ ওভারে ১০১ রান দিয়ে একটি উইকেট পান। এছাড়া আসিথা ফার্নান্দো ৬৩ রান দিয়ে দুটি এবং দিলশান মাদুশঙ্কা ৬৪ রান দিয়ে একটি উইকেট শিকার করেন।

৩৮৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা শুরুতেই কামিন্দু মেন্ডিসের উইকেট হারায়। সনি বেকারের বলে মাত্র ৪ রান করে ফেরেন তিনি। তবে দ্বিতীয় উইকেটে অ্যাভিশকা ফার্নান্দো ও কুশল মেন্ডিসের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে দলটি। অ্যাভিশকা ৫০ বলে ৪৮ রান করে বিদায় নেন। এরপর কুশল মেন্ডিস ও পাভান রাথনায়েকে মিলে গড়েন গুরুত্বপূর্ণ জুটি। কুশল ৭১ বলে আটটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় ৮৯ রান করে আউট হন। অন্যদিকে, আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখেন রাথনায়েকে। মাত্র ৭৭ বলে ১৫টি চার ও একটি ছক্কায় ১১৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন রাথনায়েকে। জানিথ লিয়ানাগে ১৭ বলে ২৭ এবং সাহান আরাচ্চিগে ২৪ বলে ৩০ রান করে তাকে সহায়তা করেন।

একপর্যায়ে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৪২.৩ ওভারে ৬ উইকেটে ৩১৫ রানে পৌঁছায়। তখনও জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৭২ রান, হাতে ছিল চার উইকেট। তবে শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারিয়ে তারা ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে। ৪৫.১ ওভারে ৩৩১ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে লিয়াম ডসন ১০ ওভারে মাত্র ৪৯ রান দিয়ে চারটি উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন। সনি বেকার দুটি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া হেনরি ক্রোকম্ব, স্যাম কারান ও জো রুট একটি করে উইকেট লাভ করেন।