ইসরাইলের নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনের দাবিতে বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকোটের হার্জলিয়ার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করেছেন সমর্থকেরা। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পুনরায় সরকার গঠন থেকে ঠেকাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানান বিক্ষোভকারীরা।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ‘অংশীদারত্ব ছাড়া পরিবর্তন সম্ভব নয়’ বলে স্লোগান দেন। বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে জোট গঠনের দাব সংবলিত এ বিক্ষোভে তেল আবিব-ইয়াফোর উপমেয়র আমির বদরানও সরাসরি অংশ নেন।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসনের প্রয়োজন হলেও কোনো পক্ষই সেই সংখ্যা ছুঁতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন, যার মধ্যে তার দল লিকুদ পার্টি পেয়েছে ২৭টি আসন। অন্যদিকে, প্রধান চারটি বিরোধী দল বিজয়ী হয়েছে ৪৮টি আসনে। এই বিরোধী শিবিরের মধ্যে গাদি আইজেনকোটের দল ‘ইয়াশার’ ২১টি আসন পেয়ে বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে মূল চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে আরব দলগুলো। নির্বাচনে জয়েন্ট লিস্ট ১১টি এবং মানসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রা’আম পার্টি ৮টি আসন পেয়ে মোট ১৯টি আসন নিজেদের ঝুলিতে তুলেছে। নেতানিয়াহুবিরোধী সরকার গঠনে আইজেনকোট ও তার সহযোগীদের জন্য এই আরব দলগুলোর অন্তত একটির সমর্থন জরুরি। সে ক্ষেত্রে সরাসরি জোটে অন্তর্ভূক্ত করা অথবা বাইরে থেকে সমর্থন নিয়ে একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠনের বিষয়গুলো আলোচনায় রয়েছে।

তবে আরব দলগুলোর ওপর ভিত্তি করে সরকার গড়ার প্রক্রিয়ায় মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন ইসরাইল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান। তার দল ৭টি আসন পেয়েছে। তিনি আরব দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি জোট গঠন কিংবা তাদের সমর্থনে গঠিত সংখ্যালঘু সরকার—দুই প্রস্তাবই নাকচ করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ফল প্রকাশের পর নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার আইজেনকোট বৈঠক করেছেন বিয়াখাদ পার্টির নেতা নাফতালি বেনেট এবং ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়ার গোলানের সঙ্গে। একই দিনে ডেমোক্র্যাটস নেতা ইয়ার গোলান রা’আম পার্টির প্রধান মানসুর আব্বাসের সঙ্গেও বৈঠক করেন। গোলান বিকল্প সরকার গঠন ও রাজনৈতিক অংশীদারত্বের পক্ষে মত দিয়ে আরব দলগুলোর সাথে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। এখন বিরোধী দলগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক মতপার্থক্য নিরসন করে ৬১টি আসনের সমর্থন নিশ্চিত করাই মূল চ্যালেঞ্জ।

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৩: ৫৭আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৩: ৫৭