কম কোলেস্টেরল এবং হৃদরোগের ঝুঁকি: নতুন গবেষণা কী বলছে?
ঐতিহ্যগতভাবে, উচ্চ কোলেস্টেরল, বিশেষ করে উচ্চ LDL (“খারাপ” কোলেস্টেরল), হৃদরোগের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে, কিছু গবেষণা পরামর্শ দিচ্ছে যে কোলেস্টেরলের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কম থাকলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
LDL (কম ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন) খুব কম হলে:
যদিও LDL-কে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয় এবং এর মাত্রা কম রাখা ভালো, কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে LDL মাত্রা খুব বেশি কমে গেলে কিছু স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়তে পারে। উদাহরণস্বরূপ:
-
স্ট্রোকের ঝুঁকি: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে LDL মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে 40 mg-এর নিচে চলে গেলে হেমোরেজিক স্ট্রোকের (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ) ঝুঁকি সামান্য বাড়তে পারে। যদিও এই বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন।
-
ক্যান্সারের ঝুঁকি: কিছু পুরোনো গবেষণায় LDL-এর খুব কম মাত্রার সঙ্গে ক্যান্সারের ঝুঁকির একটি সম্ভাব্য যোগসূত্র দেখা গিয়েছিল, তবে পরবর্তী গবেষণায় এই সংযোগটি দৃঢ়ভাবে প্রমাণিত হয়নি এবং এটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ মনে করেন না যে কম LDL সরাসরি ক্যান্সারের কারণ।
-
বিষণ্ণতা ও উদ্বেগ: কোলেস্টেরল মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি কোষের ঝিল্লি গঠনে এবং নিউরোট্রান্সমিটার তৈরিতে ভূমিকা রাখে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে কোলেস্টেরলের মাত্রা খুব কম হলে তা বিষণ্ণতা, উদ্বেগ এবং মেজাজের পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
HDL (উচ্চ ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন) খুব কম হলে:
HDL-কে (“ভালো” কোলেস্টেরল) সাধারণত হৃদরোগ থেকে রক্ষা করে বলে মনে করা হয়। তাই HDL মাত্রা কম থাকা এমনিতেই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। খুব বেশি কম HDL এর অর্থ হলো হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা কম এবং ধমনীতে প্লাক জমার ঝুঁকি বেশি।
ট্রাইগ্লিসারাইডস খুব কম হলে:
ট্রাইগ্লিসারাইডস হল এক ধরণের চর্বি যা শরীরে শক্তি সঞ্চয় করে। উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইডস হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে, ট্রাইগ্লিসারাইডস মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কম হওয়া সাধারণত কোনো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ নয় এবং এটি প্রায়শই স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের ফলাফল হতে পারে।
সামগ্রিক কোলেস্টেরল (Total Cholesterol) খুব কম হলে:
সামগ্রিক কোলেস্টেরল মাত্রা (Total Cholesterol) প্রতি ডেসিলিটারে 120 mg-এর নিচে নেমে গেলে কিছু সমস্যা হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে:
-
পুষ্টির অভাব।
-
লিভারের সমস্যা।
-
হাইপারথাইরয়েডিজম।
-
কিছু ধরণের ক্যান্সার (যদিও এটি বিতর্কিত)।
কারা ঝুঁকিতে আছেন?
যারা স্ট্যাটিন (statins) এর মতো কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে কোলেস্টেরলের মাত্রা খুব বেশি কমে যেতে পারে। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি যাতে ওষুধের ডোজ সামঞ্জস্য করা যায়। এছাড়া, অপুষ্টি বা কিছু নির্দিষ্ট রোগের কারণেও কোলেস্টেরল অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে।
উপসংহার:
যদিও উচ্চ কোলেস্টেরলই হৃদরোগের প্রধান উদ্বেগ, তবে কোলেস্টেরলের মাত্রা খুব বেশি কম হওয়াও কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যেকোনো কোলেস্টেরল অস্বাভাবিকতা সম্পর্কে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলা উচিত। একটি সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।