গ্রাম আদালতের ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে ঢাকায় প্রশিক্ষণ শুরু

মোঃ রনি হাবিব
বিশেষ প্রতিনিধি সাভার (ঢাকা)

গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গতিশীলতা বাড়াতে ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (VCMIS) বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে রাজধানী ঢাকায়। রবিবার (১ নভেম্বর ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) মিলনায়তনে ২৫তম ও ২৬তম ব্যাচের এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়। প্রশিক্ষণ চলবে আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত।

‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রাম আদালতের মামলা-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা, হালনাগাদ ও প্রতিবেদন তৈরিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি ডিজিটাল প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও তথ্যনির্ভর করা।

প্রশিক্ষণের ২৫তম ও ২৬তম ব্যাচের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-২ শাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউএনডিপির ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট মোহাম্মদ আলাউদ্দিন এবং এমআইএস অ্যান্ড ডিজিটালাইজেশন অ্যাসোসিয়েট মো. শাহেদ মেহেদী।

প্রশিক্ষণে মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান ও গজারিয়া উপজেলা এবং গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া, কালীগঞ্জ ও কালিয়াকৈর উপজেলার কো-অর্ডিনেটররা অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে তথ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সমন্বয় ও দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রশিক্ষণে গ্রাম আদালতের মামলা-সংক্রান্ত তথ্য এন্ট্রি, নতুন মামলা নিবন্ধন, তথ্য হালনাগাদ, মামলার অগ্রগতি ও নিষ্পত্তির তথ্য সংরক্ষণ, তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিতকরণ এবং VCMIS-এর মাধ্যমে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের কৌশল এবং তথ্য ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রাম আদালতের তথ্য ব্যবস্থাপনায় পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে মামলা দায়ের থেকে শুরু করে শুনানি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নিষ্পত্তি পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ের তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে। ফলে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে গ্রাম আদালতের অগ্রগতি মূল্যায়ন, কার্যক্রমের পরিবীক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কার্যকর হবে।

ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনার এ উদ্যোগ গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিচারপ্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী স্থানীয় পর্যায়ে স্বল্প সময়ে, স্বল্প খরচে ও সহজে ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।

প্রশিক্ষণে আয়োজক প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের ঢাকা জেলার ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মো. আল-ফারুক গাজী এবং প্রোগ্রাম অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার আসাদ হাসান চৌধুরী।

উল্লেখ্য, ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।