চলমান পোশাকশিল্প খাতের অস্থিরতার নেপথ্যে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কিছু শিল্পমালিকসহ সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ সোমবার সকালে সচিবালয়ে পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। মন্ত্রী জানান, পোশাক খাত অস্থিতিশীল করতে উসকানি দেওয়া চিহ্নিত ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বৈঠকে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের কাছে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। যেসব শিল্পমালিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারখানা বন্ধ রেখেছেন, তাঁদের একটি তালিকা দেওয়ার জন্য মালিক সংগঠনের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি আন্দোলন ও অস্থিরতার পেছনে যেসব শ্রমিকনেতা ও সংগঠন জড়িত, তাদের নামের তালিকাও চাওয়া হয়েছে। কারখানা সুরক্ষা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পুলিশ সদর দপ্তরে একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেখান থেকে ‘সুরক্ষা’ অ্যাপসের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ বিভাগ ও মালিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি মনোনীত করা হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানান, সরকার চায় না কোনো শিল্পকারখানা এক মুহূর্তের জন্য বন্ধ থাকুক।
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকেরা গত কয়েক দিন ধরে যে আন্দোলন করছেন, তার সুযোগ নিয়ে পতিত স্বৈরাচারের ফ্যাসিবাদের সমর্থিত পক্ষগুলো অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মহাসড়কে অবরোধ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার নেপথ্যে ইন্ধনদাতাদের শনাক্ত করা হয়েছে। অস্থিতিশীলতার পেছনে সাধারণ বা প্রকৃত শ্রমিকেরা জড়িত নন উল্লেখ করে তিনি কঠোর বার্তা দেন যে, শ্রমিক আন্দোলনের নামে আইনশৃঙ্খলা বা শ্রমিক স্বার্থবিরোধী যেকোনো চক্রান্ত কঠোর হস্তে দমন করা হবে। ইতিমধ্যে সহিংস ঘটনার ভিডিও, অডিও ফুটেজ ও সচিত্র প্রমাণ সংগ্রহ করে জড়িত বেশ কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে নাশকতার অভিযোগে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ ৪৯ জনকে আটক ও গ্রেপ্তার করার বিষয়টি জানানো হয়।
শ্রমিকদের মজুরি বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার ইতিমধ্যে তিন বছর পরপর মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে মজুরি বোর্ড গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। মালিকপক্ষ আগেই নাম জমা দিলেও শ্রমিক সংগঠনগুলো গত পরশু রাতে তাদের প্রতিনিধির নাম দেয়। খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং সুনির্দিষ্ট সময়ে আলোচনা শেষে নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে। পরিস্থিতির সমাধানে আজ বেলা তিনটায় শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সরকারের পৃথক বৈঠক করার কথা রয়েছে, যেখানে তাঁদের মতামত ও পরামর্শ শুনে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আগামী ডিসেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন নিয়ে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি মন্তব্য করেন, পলাতক যেসব ফ্যাসিবাদী শক্তি ও নেতা দেশে ফিরতে চান, তাঁদের দ্রুত ফিরে আসা উচিত। এর জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকার তাঁদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রস্তুত। সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রবাসীকल्याण মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং শ্রমিকনেতা ও সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।