প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম। সোমবার সকালে আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর এবং সাভারের হেমায়েতপুরে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এই ঘটনায় কমপক্ষে দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। এছাড়া শিল্প পুলিশের ১৫০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় একটি পোশাক কারখানার কাভার্ড ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা। বেলা ১২টার দিকে নরসিংহপুরের নদী ফিলিং স্টেশনের সামনে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ কারখানা কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। গত কয়েকদিনের আন্দোলনে সাভার ও আশুলিয়ায় মোট ২৩০টি গার্মেন্টস কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালের দিকে শ্রমিকেরা প্রথমে অনন্ত গ্রুপের কারখানা এবং পরে হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনে জড়ো হন। তারা বিভিন্ন দাবিতে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নরসিংহপুরের নিউএজ কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি শেষে বেরিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন।
সাভারের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু ঘটনাস্থলে যান এবং সড়ক অবরোধ পরিদর্শন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, পতিত সরকারের দোসর ও বহিরাগতরা পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করতে শ্রমিকদের আন্দোলনে নাশকতা সৃষ্টি করছে। একই অভিযোগ করেছে সাভার শিল্প পুলিশ; তারা জানায়, বহিরাগতরা জোরপূর্বক কারখানা বন্ধ করিয়ে শ্রমিকদের মহাসড়কে আসতে বাধ্য করছে, যার ফলে শান্তিপ্রিয় শ্রমিকরাও কর্মস্থলে থাকতে পারছেন না।
সংঘর্ষের সময় শিল্প পুলিশ-১-এর এএসপি (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) শোয়েব আহমেদ ইটপাটকেলের আঘাতে সামান্য আহত হয়েছেন। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল এবং শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান ছিল। বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বাইপাইল থেকে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে তারা শ্রমিক না বহিরাগত তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।